👁 140 Views

নবাবগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যার চাচাতো ভাইয়ের স্বীকারোক্তি

ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুল আল সামস (৭) নামের এক শিশুর গলা ,হাত এবং পায়ের রগ কাটা ও ক্ষতবিক্ষত কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তার চাচাতো আমানুর ইসলাম ওরফে আমান (২১)। গত (২৭ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার ইফতারের পর সামসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান আমানুর। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শিশুটির পায়ের রগ কাটা, ডান পায়ের ঊরুতে গভীর ক্ষত, ঘাড়ের ডান পাশে কাটা এবং ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শিশুটি নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার নিথর দেহ উপজেলার আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ভুট্টাখেতের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত শিশুটি আফতাবগঞ্জ চাইল্ড কেয়ার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের একমাত্র ছেলে । (২৮ ফেব্রুয়ারি) শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), দিনাজপুর। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমানুর ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি উপজেলার একটি ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার বাড়ির চুলা থেকে রক্তমাখা একটি লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এবং সেখানেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরবর্তীতে মরদেহ মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেতে ফেলে রাখা হয়। সামসের মা শাম্মী আক্তার জানান, ঘটনার সময় আমানুর কৌশলে তাকে ব্যস্ত রাখেন। পরে ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় নিহতের বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আমানুর ইসলামকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *