👁 260 Views

শ্রীপুরে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের ‘ভুতুড়ে’ কমিটি, ২৪ ঘণ্টার নাটকে পদ বিক্রির অভিযোগ!

​আশিকুর রহমান সবুজ, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:  গাজীপুরের শ্রীপুরে সাংবাদিকতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব’ উপজেলা শাখাকে নিয়ে এক নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একটি বৈধ কমিটিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজান্তেই নতুন ‘ভুতুড়ে’ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার ঘটনায় বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে এবং মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পদ বিক্রি করতে খোদ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ভুল তথ্য দিয়ে এই পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলা কমিটিকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হুট করেই কমিটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। অদ্ভুতভাবে দাবি করা হয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, যদিও অনুমোদিত মূল কাগজে মেয়াদ আরও এক বছর বাকি থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমিটি বাতিলের মাত্র একদিন পর ১৫ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
 “সভাপতি নিজেই নাটকের রচয়িতা”  বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রানা এই অস্থিরতার নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তির নাম সামনে এনেছেন। তিনি সরাসরি সাবেক সভাপতি নাঈম হাসানকে অভিযুক্ত করে বলেন, “এই নাটকের মূল রচয়িতা নাঈম হাসান নিজেই। সে একজন লোভী ও স্বার্থান্বেষী মানুষ। আমি তাকে কমিটিতে যুক্ত করেছিলাম, আর সে লোভে পড়ে আমাকে সরিয়ে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে।”
​সোহাগ রানা আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, “নাঈম হাসান নিজে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার লোভে তার আগের সভাপতি পদটি সংগঠনের বাইরের একজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তার সংগঠন চালানোর কোনো যোগ্যতা নেই। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, কোনো পেশাদার ও যোগ্য সাংবাদিক তার সাথে কাজ করবে না।”
​অন্ধকারে কমিটির সদস্যরা, দায় সোহাগ রানার ওপর:  এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে কমিটির একাধিক সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা হলে বেরিয়ে আসে আরও অদ্ভুত তথ্য। সদস্যরা জানান, তারা এই নতুন কমিটি বা তাদের পদের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এমনকি তারা নাঈম হাসানের নেতৃত্বে নয়, বরং সাংবাদিক সোহাগ রানার ওপর আস্থা রেখেই এই সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন বলে স্পষ্ট জানান।
নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা মোঃ বাদল মিয়া ও বাবুল মিয়াও এই কমিটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের অনুমতি ছাড়াই নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বাদল মিয়া জানান, জেলা কমিটির নেতারাও কেন্দ্রীয় এই একতরফা হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ধারণা, পদ কেনাবেচা এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই শ্রীপুরের সাংবাদিকতাকে বিভক্ত করা হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকদের বাইরে রেখে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের এই প্রক্রিয়া শ্রীপুরের সাংবাদিক মহলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
​সংগঠনের এমন কলঙ্কজনক পরিস্থিতিতে শ্রীপুরের সচেতন সাংবাদিক সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে এই জালিয়াতির তদন্ত এবং ‘পদ বাণিজ্য’ বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *