
নাটোর প্রতিনিধি নাটোরের বড়াইগ্রামে সিরিয়াল ভেঙ্গে এলপিজি গ্যাস না দেয়ায় বিএনপির এমপি প্রার্থীর ছেলের নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলারের চালকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই প্রার্থীর ছেলেসহ তার কয়েকজন অনুসারীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার দুপুরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রয়না ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন মধু এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। অপরদিকে, সোমবার বিকালে কানের দুল চুরির অপবাদ দিয়ে দরিদ্র প্রতিবেশীর গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জোয়াড়ী ইউনিয়ন বিএপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সাবেক ইউপি সদস্য কামাল হোসেন মেম্বার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি চালকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার চালকরা সিরিয়াল মেনে ফিলিং স্টেশনে এলপিজি গ্যাস নিচ্ছিলেন। এ সময় নাটোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজের ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা কয়েকটি প্রাইভেট নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে সিরিয়াল অমান্য করে সরাসরি ঢুকে পড়েন। এ সময় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন তাদেরকে সিরিয়াল অনুযায়ী গ্যাস নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধানের শীষের কর্মীরা মাহমুদুজ্জামান সোহাগের সামনেই ওই ম্যানেজারের কলার চেপে ধরে কয়েকটি ঘুষি মারেন। এ সময় সিরিয়ালে থাকা যানবাহনের চালকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এদিকে, গত রোববার উপজেলার কায়েমকোলা সরকার পাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হায়েত আলীর ছেলে সোহেল রানা রানু বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের বাড়িতে যান। এ সময় বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি ফিরে যান। কিন্তু এর পরপরই কামাল হোসেনের স্ত্রী মিনা বেগম প্রতিবেশী সোহেল রানা তার কানের দুল ও পায়ের নুপুর চুড়ি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন।
পরে সোমবার বিকালে মিনা বেগম ও তার স্বামী ওই বাড়িতে গিয়ে জোর করে তাদের গোয়াল ঘর থেকে দড়ি খুলে একটি গরু নিয়ে চলে যান।
এ ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক বলেন, আমরা এই আসনের ভোটার। সামনে নির্বাচন। কিন্তু আমাদের প্রার্থীর ছেলে ও তার লোকজন আজ সবার সামনে যে আচরণটি করলেন তা খুবই নিন্দনীয়। নির্বাচনের আগেই তাদের এমন আচরণ আমাদের খুবই হতাশ করেছে।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী প্রাইভেট কারের চালক আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের সামনেই বিএনপির কর্মীরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে হেনস্থা করেছে। ম্যানেজার তাদেরকে অনুরোধের সাথে কথা বললেও তারা খুবই উগ্রতার পরিচয় দিয়েছে। যাদের ভোটে ক্ষমতায় যাবে, তাদের সাথে এমন আচরণ করা ঠিক না।
এ ব্যাপারে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জসিমউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আর কিছু বলতে রাজি হননি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহমুদুজ্জামান সোহাগ বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তার সাথে কোন হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি এটি ছাত্রদলের একজনের সাথে ঘটলেও পরে তা মীমাংসা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা দেখলে সব বোঝা যাবে ম্যানেজারকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। পাম্পের অপারেটরের সাথে একটু তর্কাতর্কি হয়েছিল মাত্র।