👁 491 Views

মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি, অভিযুক্ত পলাতক

সাইদুর রহমান সাজু, মহাস্থান ( বগুড়া) থেকেঃ বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা ঐতিহাসিক মহাস্থান মাহী সাওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় চলতি বছরের( ২০২৬ ইং) এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর দিন সকালে কলেজে এসে প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা কলেজের সামনে অবস্থান নেন।
এ ঘটনায় কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বুধবার থেকে পলাতক।
কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন।
গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও তারা কেউ প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাগজপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটরের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সম্রাট সরকার বলেন, ‘শাওন আমাদের বলেছিল সে কলেজের স্টাফ, স্যারদের বলে সব ব্যবস্থা করে দেবে। এই বিশ্বাসে আমরা তাকে টাকা দিই। কিন্তু সে শুধু আজকে-কালকে বলে ঘুরাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে কলেজে এসে যখন প্রিন্সিপাল স্যারকে জানাই, স্যার বলেন, এখন আর কিছু করার নেই।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. হাসর বলেন, ‘ফরম পূরণের সময় পার হয়ে যাওয়ায় আমি চিন্তিত ছিলাম। তখন শাওন নিজ থেকেই স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং ৪ হাজার টাকা নেয়। পরে কার্ড চাইলে একটু সময় লাগবে বলে জানায়। এমনকি সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আছে—এমন ভিডিও পাঠিয়েও আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে তার ফোন বন্ধ। আমার মতো কোনো শিক্ষার্থী যেন আর এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি বুধবার বিকেলে জানতে পেরেছি। দুজন শিক্ষার্থী এসে আমাকে জানালে আমি তাদের বলি যে আমাদের কলেজের সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। ফরম পূরণের জন্য আলাদা কমিটি আছে, হাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। শাওন এখানে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করত। ঘটনার পর তাকে ফোন দেওয়া হলেও সে রিসিভ করেনি, এখন ফোন বন্ধ।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দুই দিন আগেও বিষয়টি আমাদের জানাত, তাহলেও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা যেত। একেবারে শেষ মুহূর্তে জানানোয় অফিশিয়ালি আর কিছু করার ছিল না। মহাস্থান কলেজ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, এখানে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষার্থীরা তো কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি, কিন্ত অভিভাবকেরা পরীক্ষার ২/৩ দিন পূর্বে তাদের সন্তানদের কাছে খোজ নিতে পারত যে, তোমাদের পরীক্ষার প্রবেশ পত্র এনেছ কি? যদি তারা দেখাতে না পারত তাহলে অভিভাবকেরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে যেয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করে নিতে পারত, এতে অভিভাকেরা কি তাদের দায় এড়াতে পারেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *