👁 184 Views

ডহুরী গৌরগঞ্জ টোল স্টেশনে টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

মো. মাসুম, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গৌড়গঞ্জ খালে চলাচলকারী নৌযান থেকে টোল আদায়ে অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব গোপনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালিত ডহুরী টোল স্টেশনে আদায়কৃত টাকার সঠিক হিসাব রাখা হচ্ছে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টোলের রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বর্তমানে গরুবাহী ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচল বেড়েছে। প্রতিদিন কয়েক শতাধিক ট্রলার ও নৌযান গৌড়গঞ্জ খাল দিয়ে যাতায়াত করছে। এসব যানবাহন থেকে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টোল স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন টোল কালেক্টর রয়েছেন। তারা হলেন মো. নজরুল ইসলাম, মো. ফরহাদ হোসেন ও মো. শহীদুল ইসলাম। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বাইরে আরও একজন ব্যক্তিকে টোল আদায়ের কাজে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তি সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কিনা কিংবা তিনি কোনো বেতন-ভাতা পান কিনা, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টোল আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব অনুসরণ করা হয় না। বেশিরভাগ সময় আদায়কৃত অর্থের রশিদও দেওয়া হয় না। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন চলাচল করলেও তার পুরো হিসাব সরকারি খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। সামান্য কিছু রসিদ কেটে বাকী অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টোল আদায়ের তথ্য কম্পিউটারে নিয়মিত সংরক্ষণ করা হয় না। দিন শেষে নিজেদের মতো করে সীমিত সংখ্যক রসিদ কেটে হিসাব সম্পন্ন করা হয়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টোল কালেক্টররা সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকায় টোল আদায়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে টোল কালেক্টর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “নির্দিষ্ট কোনো হিসেব নেই, একদিন কম একদিন বেশি। সঠিক কোনো উত্তর না দিয়েই তিনি কল কেটে দেন।”

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে সরকারি অর্থের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *