👁 350 Views

কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়াবিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতে সরকার চালু করেছে ক্রীড়া কার্ড ও মাসিক ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন ক্রীড়াবিদ।
গত ৩০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান করেন। দুই ধাপে মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এ সুবিধার আওতায় আসেন।
রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পাওয়া কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ক্রীড়াবিদরা হলেন—জিমন্যাস্টিকসে উহাইমং মার্মা, রাজীব চাকমা, নিঝুম খীসা ও সাংখেঅং খুমী কিতং; টেবিল টেনিসে খই খই সাই মার্মা ও রামহিমলিয়ান বম এবং ভলিবলে মৌমৌ খই মার্মা।
“অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই”—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শুরু হয় “আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস” কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোচদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গত এক যুগে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২১৮টি স্বর্ণসহ মোট ৫৫৬টি পদক অর্জন করে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম থানচি এলাকার জুমচাষি পরিবারের সন্তান উহাইমং মার্মা ২০১১ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কোয়ান্টামে ভর্তি হন। ২০১৩ সাল থেকে জিমন্যাস্টিকস চর্চা শুরু করে বর্তমানে জাতীয় দলের একজন দক্ষ জিমন্যাস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাজীব চাকমা ২০১০ সালে কোয়ান্টামে ভর্তি হয়ে এখান থেকেই জিমন্যাস্টিকসে হাতেখড়ি নেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় দলের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেছেন। একইভাবে নিঝুম খীসা ও সাংখেঅং খুমী কিতংও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
টেবিল টেনিসেও রয়েছে কোয়ান্টামের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিসে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই সাই মার্মা বর্তমানে জাতীয় র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করছেন।
এছাড়া রামহিমলিয়ান বমও টেবিল টেনিসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। অন্যদিকে জাতীয় নারী ভলিবল দলের সদস্য মৌমৌ খই মার্মাও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্রীড়া কার্ড পেয়েছেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ জনাব ছালেহ আহমেদ বলেন, “ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি, ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতবে—এই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে কোয়ান্টাম”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *