👁 201 Views

ঘোড়াঘাটে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট

 

ঘোড়ঘাট প্রতিনিধিঃ-
কোরবানির ঈদ সামনে গরু দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদুল আযহার আর মাত্র ১০/১২ দিন বাকি থাকলেও হাট গুলতে গরু তুলতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা ও গ্রহস্থরা। ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে হাটে আসলেও ক্রেতারা এখন হাটে ভিড়ছে না। বাহিরের ব্যবসায়ীরা হাটে এসে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহি হাট রাণীগঞ্জ হাট সোমবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দু- দিন হাট বসে। আগে ভাগে কিনলে রাখার সমস্যা তাই ঈদের আগ মুহুতে কিনলে সুবিধা। এ হাটে গ্রহস্থদের গরু বেশি উঠে । ক্রেতাদের সমাগম বেশি হবে বলে মনে করেন গরু বিক্রেতারা। এবার কোরবানির পশুর হাটে গ্রহস্থদের বিদেশী পালা গরু আমদানি বেশি হবে বলে মনে করছে ক্রেতারা।

এখন ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন বিক্রয়ের জন্য । আর ক্রেতারা আপেক্ষায় আছেন সাধ্যের মধ্যে একটি ভাল পশু কেনার জন্য। এক খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি, কিন্তু বাজারে ভারতীয় অবৈধ গরু বেশি থাকায় আমাদের গরুর দাম কমে যায়। এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি।’

উপজেলার বিভিন্ন খামার, পশুর হাট ও বাজারে নিয়মিত পরিদর্শন করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে খামারিদের সচেতন করতে চলছে প্রচার-প্রচারণা ও পরামর্শ কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ৫০০টি হলেও খামার পর্যায়ে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষসহ প্রায় ৭ হাজার ২৪৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া গৃহস্থ পরিবারগুলোতেও আনুমানিক আরও ৮ থেকে ৯ হাজার কুরবানি উপযোগী পশু প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলার খামারি ঘোড়াঘাট পৌরসভার নেচার ফ্রেশ ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী শাহ নেওয়াজ বলেন, প্রাণীসম্পদ দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই আমাদের নির্দেশনা হয়েছে যে, কোনোভাবেই কেমিকেল জাতীয় কোনো কিছু দিয়েই পশু মোটাতাজা করা যাবেনা। এবং আমরা তাদের নির্দেশনা মোতাবেক প্রাকৃতিক উপায়েই পশু মোটাতাজা করে সেগুলো হাটে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছি।

ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, কুরবানির পশু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের স্টেরয়ড, হরমোন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করতে খামারিদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজারে যাতে অসুস্থ বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকৃত পশু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্রেতারা যেন সুস্থ ও নিরাপদ পশু কিনতে পারেন, সে বিষয়েটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী বিক্রি করতে আনা কোনো প্রাণিকে নির্যাতন বা অপ্রয়াজনীয় নিষ্ঠুরতার ক্ষেত্রে অপরাধীর সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দ-ে দ-িত বিধান রয়েছে।

 

এদিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি থাকলে বাজারে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বিক্রি অনেকটাই কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *