👁 263 Views

দারিদ্রতা জয় করে সাফ চ্যাম্পিয়ন বোদার কৃতি ফুটবলার মুরশেদ আলী

বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : দারিদ্রতাকে জয় করে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বোদার কৃতি ফুটবলার মুরশেদ আলী।  সাফ অনুর্ধ-২০ চ্যাম্পিয়নশীপে চিরপ্রতিদন্ধী ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। আর সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কৃতি ফুটবলার মুরশেদ।
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার থানাপাড়া গ্রামের গরীব অসহায় বাবা মায়ের ৪ সন্তানের কনিষ্ট পুত্র সন্তান মুরশেদ আলী। বাবা ফেরিওয়ালা, মা গৃহিনী। খেয়ে না খেয়ে বড় হয়ে ওঠা এমন কষ্টের গল্প নিয়েই মুরশেদ আলী এখন বাংলাদেশের গর্ব। সেই সাথে বোদা উপজেলার গর্ব। চরম দরিদ্র ফেরিওয়ালা বাবা কষ্টের মাঝে ছেলেকে ফুটবলার বানোনোর স্বপ্ন নিয়ে বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও কোচ মোফাজ্জল হোসেন বিপুলের হাতে তুলে দেন। সেই থেকেই মুরশেদ আলীর দায়িত্ব নিয়ে তাকে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর কাজটি করেন তিনি। আর সেই মুরশেদ আলীই এখন সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের গর্বিত সদস্য।
অভাব-অনটনের সংসার,গুচ্ছ গ্রামে সরকারি জায়গায় ভাঙ্গা ঘরের চালা, ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা, তার উপর বয়ে যাওয়া শীলা বৃষ্টিতে ঘরের অবস্থা বসবাসের অনুপোযোগী। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা কখনও আটকে রাখতে পারেনি তাকে। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ফুটবল মাঠে ছুটে চলা, গোল করা এবং দেশকে জয় এনে দেওয়া।
শুরুটা ছিল কঠিন। খেলার সামগ্রী কেনার মতো সামর্থ্যও ছিল না, অনেক সময় খালি পেটে ও খালি পায়ে অনুশীলন করেছেন মুরশেদ আলী। তবুও থেমে যাননি। কারণ তার পাশে ছিলেন একাডেমি পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন বিপুল। মুররশেদ আলীকে নিজের স্বপ্নের মতো লালন করেছেন দেখেছেন নিজের সন্তানের মত। আজ সেই মুরশেদ  বাংলাদেশের অনুর্ধ-২০ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে দুদান্ত খেলে জয় ছিনিয়ে আনতে রেখেছেন অগ্রনী ভুমিকা। তার ১ম ট্রাইবেকারের নিখুত গোলেই জয়ের সুবাতাশ পায় বাংলাদেশ, সাহস যোগায় সহযোদ্ধাদের।
টুস্টার বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমির প্যাকটিস থেকে বাফুফের এলিট একাডেমীতে চান্স পাওয়া মুরশেদ আলী। ২০২২ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের বয়সভিত্তিক জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০২৪ সালে ট্রাইবেকারে হেরে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার আপ হয়েছিলেন। সেই থেকেই মনের মাঝে সাফ চ্যাম্পিয়ন ট্রাফি জয়ের নেশা কাজ করে তার মাঝে। দেশকে সম্মান এনে দিতে সবোর্চ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান। চলতি সাফে অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে দারুন এসিস্টে গোলের ভুমিকা রেখে দলকে ফাইনালে তোলার পর গতকাল ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
মুরশেদ  আলীর জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে ত্যাগের গল্প। সেই স্মৃতি হাতড়ে সে বলে, ‘যতদূর এসেছি, এর পেছনে একাডেমির পরিচালক ও আমার ছোটবেলার কোচ মোফাজ্জল হোসেন বিপুলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের থাকার মত ঘরটি বসবাসের উপযোগী নয়।  এ অবস্থায় সরকারের প্রতি অনুরোধ— যেন আমাদের জন্য একটি জমি সহ বসবাসযোগ্য ঘর করে দেওয়া হয়।’ আমার একটাই স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে আরও গোল করা, আরও জয় এনে দেওয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা।
মুরশেদের  বাবা আঃ কুদ্দুস  জানিয়েছেন, বাড়ী বাড়ী ফেরি করেই অভাবের সংসার চলে। কিছুই নাই আমাদের। গুচ্ছগ্রামে ভাঙ্গা ঘরে বসবাস। সরকারের কাছে চাই, অন্তত জমিসহ ছেলের জন্য একটি ভালো ঘরের ব্যবস্থা হোক।’ আমি খুব কষ্টে সংসার চালাই। আমার ছেলে দেশের হয়ে খেলছে বিদেশে তা দেখে আমার অনেক শান্তি।
টুস্টার বোদা ফুটবল একাডেমির পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন বিপুল জানান,  আমার একাডেমিতে মুরশেদ আলীর মত অনেক ফুটবলার প্যাকটিস করে। তাদের নিজস্ব খেলাধুলার কোনো সামগ্রী না থাকলেও আমি অনেক কষ্টে সেটি তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করে থাকি। আজ মুরশেদ আলী আমার সেই কষ্ট সার্থক করেছে। আমি তাকে দেশের হয়ে সাফ জয় করতে দেখেছি এটিই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। সে আমার একাডেমির অন্য ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমি চাই সরকার তার দারিদ্রতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসা বাড়ীর ব্যবস্থা করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *