👁 345 Views

সাপাহারে সরকারি খাড়ি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ: পানি প্রবাহ হুমকির মুখে

তছলিম উদ্দীন,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার অদুরে সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তের কুচিন্দা খাড়ি দখল সহ পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাড়ির সরকারী জায়গা দখল করে এই নির্মাণ কাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সে সাথে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে উজানে অন্তত ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও স্থানীয় জনগন মনে করছেন।
শনিবার সকালে ওই স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুচিন্দা ব্রিজের দুই পাশে খাড়ির জমিতে কনক্রিটের পিলার ঢালাই করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, এই খাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এই খাড়ি দিয়েই প্রবাহিত হয়। এখন যেভাবে দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, তাতে পানির গতিপথ সরু হয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, “এই খাড়িটা আমাদের এলাকার প্রাণ। বর্ষাকালে ভারতের পানি আর আমাদের মাঠের পানি এই পথ দিয়েই ভাটির দিকে নেমে যায়। এখন যদি খাড়ি বন্ধ করে ঘর অট্রালিকা গড়ে তোলা হয়, তবে আমাদের আবাদি জমি তো ডুববেই সাথে আশে পাশের বাড়িঘরেও পানি উঠবে বিষয়টি দ্রুত গতিতে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাস্থা গ্রহনের জন্য আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি জায়গা এভাবে মগের মুল্লুকের মতো দখল করে ভবন তোলা হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কনক্রিটের ঢালগাই দিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনের বর্ষায় এই এলাকার ৭-৮টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাবে।”
এবিষয়ে ব্রীজের পূর্ব পাশের্^র দখলদার পাশর্^বর্তী পত্নীতলার বটতলী গ্রামের কফিল উদ্দীনের ছেলে ফিরোজ কবিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার বাড়ী অন্য উপজেলায় হওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজের সাথে কথা হলে তাৎক্ষনিক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) কে ঘটানা স্থল পরিদর্শনের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। এসিল্যান্ড ছুটিতে থাকায় তিনি সদর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) তারেক হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তাৎক্ষনিক তিনি ঘটনা স্থলে গিয়ে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন।
সরকারী ভূমি দখল করে ভবন নির্মানকারী ভূমি দস্যূদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী পানি উদন্নয়ন বোর্ড সহ সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *