👁 38 Views

বিমানবাহিনীর সদস্য অনন্যার জানাজা সৈয়দপুরে সম্পন্ন,শোকে স্তব্ধ এলাকা

সৈয়দপুর থেকে দুলাল সরকারঃ রাজধানীর মিরপুরে একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা (২২) মৃত্যুবরণ করার পর তার নিজ শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের কান্না, স্বজনদের আহাজারি ও এলাকাবাসীর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে নিচু কলোনী এলাকা। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে সৈয়দপুরে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় টায় সৈয়দপুর উপজেলার নিচুকলোনী ঈদগাহ মাঠে অনন্যার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।পরে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তার নানির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা সৈয়দপুর উপজেলার নিচু কলোনী বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। ছোট বোন নুরে জান্নাত সুবর্ণা সৈয়দপুরের সানফ্লাওয়ার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনন্যা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর স্থানীয় সানফ্লাওয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ পান। প্রায় চার বছর আগে তিনি বাহিনীতে যোগদান করেন এবং প্রথম কর্মস্থল ছিল সিলেটে। দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন প্রিয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অটোরিকশা চালক বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানো ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। এর মধ্যে কিছুদিন আগে বাবার অটোরিকশাটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন অনন্যা। তার আয়েই চলতো পুরো পরিবার।
স্বজনরা আরও জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে সোমবার ঢাকার মিরপুর-২ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনের শপিং মলে গিয়েছিলেন অনন্যা। দুপুরের দিকে ভবনটির তৃতীয় তলায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে অনেকের সঙ্গে তিনিও ভেতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের পরিবারটি খুবই দরিদ্র। অনন্যা চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছিল। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সে আমাদের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু শেষ করে দিল।”
অনন্যার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, “আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতাম। চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাকে বিদায় দিতে খুব কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু আজ তাকে এভাবে হারাতে হবে এটা কখনো ভাবিনি।”
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি জানান, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কী ধরনের সহায়তা করা যায় সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি চলছে।
×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *