
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ; সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপির দুই কর্মী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দুইদিন পর বুধবার (৪মার্চ) সকালে নিহত আব্দুস সালামের ছেলে জব্বারুল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
এহত্যাকান্ডে জড়িত লিটন ও আন্নাস নামের আরও দুইজনকে নাটোরের সিংড়া থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৫জনকে গ্রেফতার করা হলো।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের নজর আলীর ছেলে আছমত আলী (৪২), একই এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী (৪৪) ও আব্দুর রহিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪২), ফজলার রহমান এর ছেলে লিটন (৪০) ও পাশ্ববর্তী কানাদিঘি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আন্নাস(৪০)।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, দুজন নিহতের ঘটনায় নিহত আব্দুস সালামের ছেলে জব্বারুল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
এহত্যাকান্ডে জড়িত লিটন ও আন্নাস নামের দুইজনসহ মোট ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সোমবার রাতে আটককৃত আহত তিনজন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় ৫ বিঘা আয়তনের সরকারি খাসপুকুর নিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত আছমত আলী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কার সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। আছমত আলী স্থানীয় মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তের পর বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিক পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। সোমবার সকালে আবুবক্কার সিদ্দিক লোকজন নিয়ে ওই পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলী গ্রুপ তাতে বাঁধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ধারালো অস্ত্র, হাঁসুয়া, দাঁ ও লাঠিসোঁটার আঘাতে আছমত আলীর পক্ষের ৪ জন ও আবুবক্কার সিদ্দিকের পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুবক্কার সিদ্দিকের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৬০) ও একই গ্রুপের মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
উল্লেখ্য এই পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে ফজলার রহমান নামে আরো একজন নিহত হয়েছিলেন।