👁 324 Views

গাজীপুর-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ, আলোচনায় ‘বহিরাগত’ ইস্যু

​আশিকুর রহমান সবুজ, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ  শ্রীপুর (গাজীপুর): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর আংশিক) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এহসানুল হকের নাম প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চায়ের টেবিলে বইছে সমালোচনার ঝড়।
দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম। ছাত্র শিবিরের সাবেক এই জেলা সভাপতি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাকে বাদ দিয়ে জোট থেকে অন্য দলের প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন জামায়াত-শিবিরের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা। তাদের দাবি, ডক্টর জাহাঙ্গীরের মতো যোগ্য ও স্থানীয় প্রার্থী বাদ পড়ায় ভোটের মাঠে জোট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হকের বাড়ি ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায়। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের ভাগিনা হিসেবে পরিচিত। শ্রীপুরের স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তাকে আগে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি।
​শ্রীপুর পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রার্থী থাকলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো। কিন্তু জোট থেকে যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি বহিরাগত হওয়ায় এলাকার মানুষের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।” একই সুর শোনা গেল কাওরাইদ ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও এলাকা বড় ফ্যাক্টর। জনপ্রতিনিধি স্থানীয় না হলে তাকে বিপদে-আপদে পাশে পাওয়া যায় না।”
গাজীপুর-৩ আসনে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জটিল আকার ধারণ করছে। এ আসনে বর্তমান প্রার্থীরা হলেন:
​বিএনপি: কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
​জোট (১১ দল): বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এহসানুল হক।
​ইসলামী ঐক্যজোট: শ্রীপুর উপজেলা আমির হাফেজ মুফতি শামীম আহমেদ।
​স্বতন্ত্র: সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি নেতা ইজাদুর রহমান চৌধুরী।
প্রার্থী নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ থাকলেও গাজীপুর জেলা বা শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জামায়াত কর্মী জানান, প্রার্থীর বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা না করলে নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া কঠিন হবে।
​শিল্প ও শ্রমিক অধ্যুষিত এই আসনে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন, তা এখন নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের পছন্দের ওপর।
×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *