
কৃষ্ণ রায়, পাইকগাছা (খুলনা) খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজায় মন্দিরে মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়।
এবছর ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্চে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব কে ঘিরে বর্তমানে মন্দিরে মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর করতে সরকারি সহায়তা প্রদান করার পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে অত্র উপজেলায়। শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হলেও উৎসবের সাথে নানা ভাবে সম্পৃক্ত থাকে এখানকার সব ধর্ম এবং সকল শ্রেণির মানুষ। এ কারণে প্রতি বছর এখানে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে উদযাপিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা।
প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও ১৫১ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গোৎসব। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রাণ কৃষ্ণ দাশ ও সদস্য সচিব হিমাদ্রী শেখর দে জানান এবছর অত্র উপজেলায় ১৫১ স্থানে প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে পৌরসভায় ৬ টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭ টি, কপিলমুনিতে ১৮ টি, লতায় ১২ টি, দেলুটিতে ১৩ টি, সোলাদানায় ১২ টি, লস্করে ১৯ টি, গদাইপুরে ৭ টি, রাড়ুলীতে ২০ টি, চাঁদখালীতে ১৫ টি এবং গড়ইখালীতে ১২ টি। ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া এবং রংতুলি দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করেছেন দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুর সহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।
এছাড়া নান্দনিক ডেকোরেশন করে সাজানো হয়েছে প্রতিটি মন্দির।আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে মন্দির এবং মন্দিরের আশপাশের এলাকা। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। খুলনা -৬ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক ২৭ টি মন্দিরে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছেন। খুলনা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ১৫১ টি মন্দিরের অনুকূলে ৭ হাজার টাকা করে এবং সরকারি ভাবে মন্দির প্রতি ৬’শ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছেন। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা এবং পৌরসভা পর্যায়ে দুটি পৃথক পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ ও সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক। সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে যারা প্রতিদিন পূজা মন্দির গুলোতে নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
এদিকে সপ্তমীর পর থেকে ভক্ত আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছে শারদীয় দুর্গাপূজা। বর্তমানে পূজা মন্দির গুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার সবখানে সুন্দর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আউয়াল কবির।