👁 160 Views

বেনাপোলে শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই তিন ট্রাক পণ্য বের করার অভিযোগে দুই কর্মকর্তা ক্লোজ

ইয়ানূর রহমান : বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই তিন ট্রাক আমদানিকৃত পণ্য বের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে- এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে (এআরও) ক্লোজ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই দুই রাজস্ব কর্মকর্তা হলেন, তরিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস মুক্তা চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

সূত্রের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে তিনটি ট্রাকে পণ্য বের করে নেওয়া হয়। ট্রাকগুলোর নম্বর যশোর-ট-১১-৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৮৩৪৯ ও ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৪৭১। ঢাকার মৌলভীবাজারের সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ ভারতের দুটি ট্রাকে এসব পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল প্রত্যয় এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের।

কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নজরে আসে। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তদন্তে বিষয়টি উদঘাটিত হলে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের বিভিন্ন শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য বের করে নিচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে সামাদ, আজিম ও হিরু নামের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরের ২৮, ২৯, ৪১, ১২, ১৫, ১৭, ৩০ ও ৪২ নম্বরসহ বিভিন্ন শেডে মিথ্যা ঘোষণা, পণ্যের ওজন কম দেখানো, ভুল এইচএস কোড ব্যবহার এবং উচ্চ শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের পণ্য হিসেবে দেখিয়ে খালাস নেওয়া হচ্ছে। বৈধ পণ্যের আড়ালে উচ্চমূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ব্লেড, কেমিক্যাল ও ও প্রসাধনী আনার অভিযোগও রয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

বন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকার পরও দিনের বেলায় কীভাবে তিন ট্রাক পণ্য বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পণ্য গ্রহণ, গণনা, নথিভুক্তকরণ ও খালাসের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এলাকায় যাত্রীদের লাগেজ পারাপার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চক্র ভারত থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজের মাধ্যমে প্রসাধনী, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ফোন ও ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়মবহির্ভূতভাবে দেশে আনছে। অতিরিক্ত লাগেজ নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে গ্রহণ করে তল্লাশি পার করিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

সম্প্রতি কাস্টমসের ভেতরে লাগেজ পারাপারের সময় ধাক্কাধাক্কি এবং জানালার কাচ খুলে পণ্য আনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “কাস্টমসের ভেতরে লাগেজ পারাপারের ভিডিও দেখেছি। কাস্টমস ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা দিতে চাইলে পুলিশ মামলা নিতে প্রস্তুত আছে।”

ব্যবসায়ীরা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক, পরিবহনকারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং শেডভিত্তিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *