👁 494 Views

পার্বতীপুরে ধান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতি বস্তায় ২ কেজি ধান বেশি নেওয়ার অভিযোগ কৃষকের

আমজাদ হোসেন, পার্বতীপুর থেকে: পার্বতীপুরে ধান ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের বিরুদ্ধে ধান ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিমণ ধান ক্রয়ের সময় মাপযোগে বস্তা প্রতি ২ থেকে আড়াই কেজি ধান বেশি নিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ধান বেশি নিয়েই প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা ৩ লাখ ১৫ হাজার অতিরিক্ত টাকা লুটে নিচ্ছেন। সরেজমিন তদন্তে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুর জেলার মধ্যে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি প্রধান এবং ধান চাষ সমৃদ্ধ এলাকা হিসাবে প্রসিদ্ধ। এ উপজেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ জমিতে আমন চাষে সুগন্ধি জিরা ধানের চাষাবাদ হয়। জিরা ধানের দাম বেশি হওয়ায় এই ধানই চাষাবাদ করে থাকেন এলাকার কৃষকরা। কারণ হিসাবে জানা যায় এ ধানের চাহিদা অনেক বেশি লাভও হয় ভালো।
উপজেলার ধান ব্যবসায়ী সুত্রে জানা যায়- বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তার মোড়ে, রাস্তার ধারে, হাট-বাজারে দোকান ঘর ও গোডাউন ঘর নির্মাণ করে ধান ক্রয়-বিক্রয় করছেন ধান ব্যবসায়ীরা। কৃষকরা এসব ধান ব্যবসায়ীদের কাছে ৮০’র (৪০ সের) ওজনে ধান বিক্রয় করতে গেলে এক বস্তা ধানে ৭৬ থেকে সাড়ে ৭৭ কেজি পর্যন্ত ধান ওজন করে নেয়। অথচ ৭৫ কেজি ধান ৮০’র ওজনে ২ মণ বা এক বস্তা হলেও সেখানে ব্যবসায়ীরা ৭৭ থেকে সাড়ে ৭৭ কেজি ওজনে নিয়ে থাকেন। কোন কৃষক ১ বস্তা (৭৫ কেজি) বিপরীতে ৭৭ কেজি ধান দিতে না চাইলে তার ধান এই সব ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ীরা ক্রয় না করেই ফিরিয়ে দেন। ফলে কৃষক বা ধান চাষিরা প্রতি বস্তায় দুই থেকে আড়াই কেজি ধান বেশি দিয়েই ফড়িয়া ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিকট বিক্রয় করতে বাধ্য হন। উপজেলার আমবাড়ী হাট, হাবড়া হাট, শহীদ হাট, খয়েরপুকুর হাট, বেনির হাট, যশাই হাটসহ এসব হাটে ক্রয়-বিক্রয়ের আড়তে ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৫০ থেকে ৫৫টি আড়তে প্রতিদিন ৩০হাজার মণ বা ১৫ হাজার বস্তা সুগন্ধি জিরা ধান ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ধান ব্যবসায়ীরা এক বস্তা ধানে দুই থেকে আড়াই কেজি ধান বেশি নিলে ১৫ হাজার বস্তায় ৪ হাজার ৫শত কেজি ধান বেশি নিচ্ছেন ওই ব্যবসায়ীরা। এক মণ বা ৪০ সের জিরা ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার ৮ শত টাকা হলে ১ সের ধানে মূল্য হয় ৭০ টাকা। কৃষকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ধান বেশি নিয়ে প্রতিদিন ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুটে নিচ্ছেন ওইসব ধান ব্যবসায়ী। অল্প দিনের ব্যবধানে অনেক ধান ব্যবসায়ী প্রতারণার মাধ্যমে ধান ক্রয়-বিক্রয় করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।্
উপজেলার চকমুশা গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম জানান আমি আড়তে ধান বিক্রয় করতে গিয়ে বস্তায় ২ কেজি বেশি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ধান ক্রয় না করে ফেরত দেওয়া হয়। পরে অন্য আড়তে বস্তা প্রতি ১ কেজি ধান বেশি দিয়ে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছি। মোস্তফাপুর ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান, গৌতম চন্দ্র রায়, পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাকল গ্রামের অহিদুল হক, হরিরামপুর ইউনিয়নের চেচেয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকেই ধান বেশি নেওয়ার একই অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলার ধান ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: আফজাল হোসেনের সাথে ওজনে প্রতি বস্তায় ২ থেকে আড়াই কেজি ধান বেশি নেওয়ার অভিয্গো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন-আসলে আমরা ধান বেশি নেইনা। বস্তার ওজনের বিপরীতে ১ কেজি অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকি। কৃষকরা প্লাস্টিকের বস্তায় আড়তে ধান নিয়ে যায় এসব বস্তার ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-আসলে আমরা কৃষকদের বলেকয়েই ১ থেকে দেড়কেজি ধান বেশি নেই।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *