
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকনেতারা। এতে বন্দরকে ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর, শুল্ক বিভাগ ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি একাধিক নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শুল্কায়ন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আমিরুল হক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য খালাসের দাবি জানান। এ সময় শুল্ক বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, পণ্যের নমুনা পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে কিছু আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে সময় বেশি লাগে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
এদিকে পবিত্র রমজান সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কৌশলগত বৈঠক করে। বৈঠক শেষে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করা হয়। একই দিন সকালে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরাও আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে যেকোনো মূল্যে বন্দর সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাহাজ এজেন্ট, কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বেসরকারি অপডক মালিক সমিতি ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সবাই বন্দর সচল রাখতে চায়। কিন্তু শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে কি বন্দর সচল রাখা সম্ভব? তিনি আরও বলেন, মোংলা ও পায়রা বন্দরে শ্রমিকদের বদলি করা হয়েছে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আবার আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। তিনি জানান, গতকাল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আশ্বাস মিলেছে, তবে বাস্তবায়ন এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে যান শ্রমিকেরা। পরে ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৫ শ্রমিককে বিভিন্ন বন্দরে বদলি করা হয়। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং একপর্যায়ে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে। জাতীয় নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা আবারও আন্দোলনে যেতে পারে।
শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও বদলির বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক চেম্বার সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।