
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) সংসদীয় আসনে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের পর এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও তিনি জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।
গতকাল ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পরাজয় বরণ করেন তিনি। এরপরই তার ফেসবুক পেইজে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলের কাঁটাছেঁড়া বলছে, দুপচাঁচিয়া উপজেলায় নূর মোহাম্মদ আবু তাহের ৫৭,৭৭২ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও, আদমদীঘি উপজেলার ভোটের সমীকরণে তিনি পিছিয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ১৬,৯৯৫ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদারের কাছে পরাজয় বরণ করেন তিনি। কিন্তু এই পরাজয় তাকে বিচলিত করতে পারেনি। বরং ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই এক হৃদয়স্পর্শী বার্তায় তিনি প্রকাশ করেছেন তার গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও অটুট মনোবল।
নূর মোহাম্মদ আবু তাহের তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “আলহামদুলিল্লাহ, জয়-পরাজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আজ আমরা পরাজয় বরণ করেছি, কিন্তু মনোবল হারাইনি।” তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলার যে সংগ্রাম চালিয়েছেন, তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। চেষ্টার সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দিয়েও ‘সামান্যতে আটকে যাওয়া’র এই যাতনা তিনি সঁপে দিয়েছেন মহান আল্লাহর ওপর। তার এই সাবলীলভাবে পরাজয় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি আমাদের দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
শুধু নিজের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই নয়, তিনি জয়ী প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদারকে বড় মনের পরিচয় দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বগুড়া-৩ আসন এগিয়ে যাবে। দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘির প্রতিটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হবেন না। এই পরাজয় তার জন্য কোনো শেষ নয়, বরং দেশ ও দশের সেবায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার একটি প্রেরণা মাত্র।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ভোটের মাঠে হারলেও মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার জায়গায় নূর মোহাম্মদ আবু তাহের ঠিকই বিজয়ী হয়েছেন। একজন প্রার্থী যখন পরাজয়ের গ্লানি ভুলে বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বীকে শুভেচ্ছা জানান এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে শান্ত থাকেন, তখন তা গণতন্ত্রের জন্যই এক বড় অর্জন। পরিশেষে, তিনি তার সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আগামীর দিনগুলোতেও তিনি দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারেন।