প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ৮:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:৫৯ এ.এম
রংপুরে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দ ও আত্মসাতের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে বরাদ্দ প্রক্রিয়া

রংপুর ব্যুরো:রংপুর মহানগরীতে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি জিআর (GR) চাল বরাদ্দ ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কমিটি গঠন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ত্রাণের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। পরে সেই চাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, "ইসলাহুল উম্মাহ হাফিজিয়া মাদরাসা, পশ্চিম বাবুখা, রংপুর মহানগর" নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে জিআর চালের বরাদ্দ নেওয়া হয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাবুখা এলাকায় "ইসলাহুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা অ্যান্ড কলেজ (বালক-বালিকা)" নামে একটি ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহব্বত আলী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত কোনো আবাসিক এতিমখানা নেই। ফলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তও প্রতিষ্ঠানটি পূরণ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, জিআর চাল কেবল নিবন্ধিত এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম, মুসাফিরখানা এবং অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত এতিম ও অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই চাল অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মহব্বত আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয়—তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মহতামিম পরিচয়ে মো. হারুন কীভাবে জিআর চাল উত্তোলন করেছেন, প্রতিষ্ঠানের সরকারি নিবন্ধন ও অনুমোদন আছে কি না এবং বরাদ্দপত্রে ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে বাস্তব প্রতিষ্ঠানের নামের অমিল কেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মহব্বত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, "আপনাকে দেখে নেব। আপনি কত বড় সাংবাদিক? আমি সরকারি চাল তুলে বিক্রি করে দিয়েছি, আপনার ক্ষমতা থাকলে যা পারেন করেন।"—এমন বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।
এদিকে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লোকমান হোসেন তিনি বলেন, সরকারি চাল বাইরে বিক্রি করবে না রাখবে সেটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি আমার জানা নেই। তবে তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রহুল আমিন বলেন, “আমরা প্রতিটি মাদ্রাসার বিষয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। তদন্তের ভিত্তিতেই প্রতিটি মাদ্রাসায় ১ মেট্রিক টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই চাল এতিমদের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু যদি কোনো বেনামি বা অবৈধ প্রতিষ্ঠান অনিয়মের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে থাকে কিংবা সেই চাল বিক্রি করে থাকে, তাহলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.