প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৪, ২০২৬, ২:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ১১:৪২ পি.এম
ট্রাভেল পরমিটে দেশে ফিরে অবহেলার শিকার ১৪ বাংলাদেশি, রাত কাটল বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে

ইয়ানূর রহমান : ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও কিশোর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। রাত সাড়ে ১২টার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি বেসরকারি মনবাধিকার সংস্থা (এনজিও) তাদেরকে গ্রহণ করেছে। তবে, রাতভর বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে তাদের মানবেতর রাত্রিযাপণ করতে দেখে স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পাঞ্জাব অমৃতসর সেন্ট্রাল জেলখানায় ৩ বছর সাজাভোগ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সেফ হোমে পাঠায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের সরকারের সমন্বয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, উন্নত জীবনের আশায় দালালদের প্ররোচনায় পড়ে তারা সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতে যান। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সেফ হোমে পাঠায়। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো হয়েছে। ভারতের ইমিগ্রেশন ব্যুরোর অধীন হরিদাসপুর আইসিপি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের আওতায় এসব বাংলাদেশিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শাফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার জেলার রামু থানার নাসিরকুল রাজারকুল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবু শাকার (৩৮), সুনামগঞ্জ জেলার জাউয়াবাজার থানার বারখাপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আলা উদ্দিন (৩৯), একই জেলার ছাতক থানার ছাতক গোবিন্দগঞ্জ এলাকার নতুন বাজার কাপলা গ্রামের আকরাম আলীর ছেলে জমির আলী (২২), দোয়ারাবাজার থানার নলুয়া কাপলা গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে খালেদ হোসেন (১৭), জাউয়াবাজার থানার বারখাপুর গ্রামের ছুয়াব আলীর স্ত্রী মোসা. ময়না বেগম (৪৪), ছাতক থানার খাড়াই গ্রামের হাবিবুল্লাহর ছেলে ছানুর আলী (৫৬), একই গ্রামের তাজ উল্লাহর মেয়ে মোসা. রাজনা বেগম (২৬), নুরুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ মিয়া (১৭)।
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার জিয়াপুর গ্রামের সাজিনুর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৮), একই থানার জাউয়াবাজার এলাকার খাড়াই গ্রামের ছানুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ তামিম (২৪), মোহাম্মদ ফাহিম (১১) ও মেয়ে নাজমিন আক্তার (১৯)। একই জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ হাটিয়া গ্রামের আবির মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (২৫) এবং যশোর জেলার কেশবপুর থানার শিকারপুর এলাকার প্রতাপপুর গাজীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৭)।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.