প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ২:৩২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩১, ২০২৬, ৪:৩৫ পি.এম
ঈদকে ঘিরে নেত্রকোনার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা

নেত্রকোনা থেকে এ কে এম আব্দুল্লাহঃ পবিত্র ঈদ উল আজহাকে ঘিরে নেত্রকোনার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বোরো ধান কাটা মওসুমে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি পাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ নিন্মাঞ্চলের ফসল পানিতে তলিয়ে যায় আর টান এলাকার কৃষকরা বৃষ্টিপাতের মধ্যেই কোন রকমে তাদের পাকা ধান ক্ষেত থেকে কেটে রোদ না থাকায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকরা তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে মন্ধা ভাব দেখা দেয়।
বিএনপি সরকার গঠনের পর তিন মাসের মাথায় সরকার প্রধান তারেক রহমান এমপি মন্ত্রীদেরকে স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ঈদ করার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিরোধী দলের অপ-প্রচার বিষয়ে তৃনমুল পর্যায়ে জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর পর পরই এমপি
মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন। প্রত্যেক এমপি মন্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত অর্থ ও চাল স্থানীয় দুস্থ
অসহায় হত দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে।
ঈদ উল আজহাকে কেন্দ্র করে জেলা শহর থেকে গ্রাম গঞ্জের সব জায়গায় ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছিল। গ্রামীণ হাট বাজারে কোরবানির পশু থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলো সরগরম হয়ে উঠে জমজমাট বেচাকেনায়।
এ ছাড়া পরিবার-পরিজনের স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উৎসব পালন করতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে গ্রামীণ জনপদেও অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। ফলে ঈদ ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠছে অর্থনীতি।
সরকারি বেসরকারি ও সায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা এবং গার্মেন্টসে কর্মীরা ঈদের ছুটিতে ঈদের বেতন-বোনাস পেয়ে অনেকেই নাড়ির টানে বাড়িতে চলে এসেছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ উল ফিতরের মতো না হলেও ঈদ উল আজহায় কোরবানির পশু বেচাকেনার পাশাপাশি পায়জামা-পাঞ্জাবি, জুতা, ঘড়ি, টুপি, জায়নামাজ, আতর ও পোশাক বিক্রি বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায় বলে ব্যবসা বাড়ে। এ ছাড়া ঈদ ঘিরে পোশাকের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়তে থাকে। ফলে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। এতে সামগ্রিক ভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতিতে ঈদের অবদান যতটা ধারণা করা হয়, এর চেয়ে অনেক বেশি। সারা বছর যে পরিমাণ পণ্যের বেচাকেনা হয়, এর প্রায় ৩০ শতাংশ হয় ঈদের সময়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বার্ষিক আয়ের ৩০ শতাংশ আসে ঈদ উৎসবে।
ঈদ উপলক্ষে গ্রাম-গঞ্জ-শহরের বাজারগুলোয় ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়ে। সব পেশার মানুষ উৎসবের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন। দোকানিরাও ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে নানা পণ্যের পসরা সাজান। ঈদে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগও তৈরি হয়। ক্রেতা-গ্রাহকের ভিড় সামলাতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ করে।
এ ছাড়া ঈদ ঘিরে শহরের ত্তবান ব্যক্তিরা শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে আসেন। তখন দের উপার্জিত সম্পদের উপর যাকাত ও সমাজের দুস্থ অসহায় হত দরিদ্র মানুষের মাঝে হায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের পুনর্বণ্টন করেন। ফলে গ্রামীণ জনপদেও ঈদের আমেজ বাড়ে এবং অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.