
পঞ্চগড় : পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ভুক্তভোগির লিজ নেয়া প্রায় সাড়ে সাত বিঘা চা বাগান জমি সহ দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বোদা মাড়েয়া ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
গেল ৩১শে মার্চ দুপুরে বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের শালবাড়ি সরদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা। এ নিয়ে লিজকৃত ভূক্তভোগী চা বাগান মালিক বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছেন। চা বাগান সহ জমি ফিরে পেতে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভূক্তভোগী। তবে এখনো কোন সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
অপরদিকে সবেক চেয়ারম্যান তার বাহিনী নিয়ে চা বাগান দখলে নিয়ে পরিচর্যা করছেন। চা বাগান এলাকায় গেলে ভূক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন ওই বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের শালবাড়ি সরদার পাড়া এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধান, তার ভাই রমজান আলী প্রধান, আব্দুর রাজ্জাক প্রধান, জাকির হোসেন প্রধানের কাছ থেকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে পাড়া এলাকার ফাহমিদ আল ফরিদ, তাসরিফুল ইসলাম, মমতাজুল আহসান, আতাউর রহমান যৌথভাবে দুই একর ৪০ শতক পতিত জমি ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০৪১ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাব রেজিস্ট্রিমূলে লিজ নেন ২৫ বছরের জন্য।
প্রতি বিঘা জমি সাড়ে আট হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি পাঁচ বছর পরপর জমি ভাড়া ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয় দলিল পত্রে। পরবর্তীতে সেই জমিতে চায়ের চারা রোপন করেন ভূক্তভোগী চার বন্ধু।
২০১৮ সালের বন্যাতে চায়ের বাগান ক্ষতিগ্রস্থ হলে আবারো বাগান তৈরী করেন তারা। পরবর্তীতে করোনা মহামারী সহ নানা কারণে দীর্ঘ সময় চায়ের দাম না থাকলেও বাগানের পরিচর্যা করে জমির ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করেন।
তবে র্দীঘ সময় পরে কাঁচা চা পাতার দাম বৃদ্ধি হওয়াতে লোভে পড়ে লিজ নেয়ার ১০ বছর না যেতেই লিজের চুক্তি ভঙ্গ করে চা বাগান দখলে নিয়েছেন মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধান। একই সাথে তার বাহিনী দিয়ে প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় শোডাউন সহ তার লোকজন দিয়ে বাগানে পরিচর্যা করছেন তিনি। লিজগ্রহীতাদের বাগানে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
ভূক্তভোগী জমি লিজ গ্রহীতা তাসরফিুল ইসলাম তমু বলেন, চার বন্ধু মিলে স্বাবলম্বী হতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের জমি লিজ নেই। ওই জমিতে প্রচুর জঙ্গল ছিল। আমরা শ্রমিক দিয়ে সেগুলো পরিস্কার করে চা চাষের উপযোগী করি। তারপর সেখানে চা গাছ লাগাই।
২০১৮ সালে বন্যাতে চা বাগান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে করোনার সময় চায়ের দাম পাইনি লোকসান হলেও তবুও আমরা জমির ভাড়া নিয়মিত পরিষোধ করে দিয়েছি। তবে বর্তমানে কাঁচা চা পাতার দাম বাড়ায় আমরা কিছুটা আলোর মুখ দেখছিলাম।
হঠাৎ করে ওই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের কাছে কিছু বাড়তি টাকা চাইলেও সেটা আমরা দিতে গেলে পরে আর নেয়নি। পরে চা পাতা কাটার জন্য বাগানে গেলে তিনি আমাদের হুমকি দিয়ে তার বাহিনী দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
উপায় না পেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাগানের পাতা কেটে নিলেও বর্তমানে আমরা যেতে পারছিনা তাদের হুমকির ভয়ে। চা পাতা বিক্রির টাকা থানায় জমা আছে।
এদিকে চেয়ারম্যানের ভোড়াটে লোকজন দিয়ে হুমকি দিচ্ছে আমরা যদি চা বাগানে যাই তাহলে তার বাহিনী আমাদের মেরে ফেলবে।
আমরা স্থানীয় এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ মহোদয়ের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। যেন আমরা লিজকৃত জমিতে নিজেদের পরিশ্রম করা বাগানে যেতে পারি।
এদিকে জমি মালিক রুহুল আমিন (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান) প্রধান বলেন, ওই জমি আমি তাদের লিজ দিয়েছি সঠিক। কিন্তু তারা সেখানে চা পাতার ভেতরে আম গাছ লাগায়। সেখান থেকে সবাইকে আম দিলেও আমাকে কোনদিন আম দেয়নি। তারা প্রতিবছর পিকনিক করলেও আমাকে কখনো দাওয়াত করেনি। আমি জমি মালিক হিসেবে কি দাওয়াত পেতে পারিনা। কিছুদিন আগে আমার বোন অসুস্থ হলে ৪০ হাজার টাকা চাই সেটাও তারা ঠিকমত দিল না তাই আমার জমি চা বাগান সহ দখলে নিয়েছি। এখন নানা নেতাদের বিচার দিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এতে কোন লাভ হবে না। আমি তাদের জমিতে যেতে দিচ্ছি না তারা যা পারে করুক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় নারী / পুরুষ বলেন,এই জমিগুলো আগে জঙ্গল ছিল। কোন ধরনের আবাদ হতো না। তমু ভাইয়েরা এই জমিতে চা বাগান করেছেন অনেক কষ্ট করে। আমরা এই জমিতে চা বাগান লাগানোর কাজ করেছিলাম। এই জমি সাবেক চেয়ারম্যান তাদেরকে লিজ দিয়ে হঠাৎ করে দখলে নিয়েছে। এই কাজটি মটেও ঠিক করেননি। তারা অনেক কষ্ট করে ওই জমিতে চা বাগান করেছে,চেয়ারম্যান তাদের সাথে প্রতারণা করা ঠিক করেনি।
এবিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন,অভিযোগ প্রেক্ষিতে আমি উভয়কে থানায় ডেকেছিলাম। থানায় বসে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বোড করে চা পাতা বিক্রির টাকা দুই পক্ষের উপস্থিতিতে জমা দেয়া হয়েছে। সমাধান না হলে, যেহেতু চুক্তিপত্রের বিষয় সেহেতু তাদের কোর্টে মামলা করতে বলেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.