
স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামের প্রতিবেশীর সাথে পাল্টাপাল্টি মামলায় বাড়ি ছাড়া ইয়াসিন আলী প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্যকারী আসামীগণ বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করিয়া একই সময়ে অর্থাৎ ১২/০৩/২০২৫ইং তারিখে বিকাল ৪.০০ টার সময় পরস্পর যোগসাজসে আসামীগণ বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠি, লোহার সাবল, হাসুয়া, লইয়া অন্যায় লাভের আশায় বাদীর স্বত্ব দখলীয় বাড়ীতে জোরপুর্বক অবৈধভাবে হামলা করে বাদীর বসত বাড়ীর ৮ ফুট উচ্চতার একটি মেইন গেট যার আনুমানিক মুল্য ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা আসামী রবিউল, তহির উদ্দিন, কাদের ভাঙ্গচুর করিয়া বাদীর বসতবাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীর দক্ষিন দুয়ারী উত্তর ঘরে অবস্থান করে আসামী রবিউলের হাতে থাকা লাঠি দ্বারা বাদীর বাম কাধে আঘাত করে।
মারপিট করে ছিলা বেদনা দায়ক জখম করে এবং আসামী সালাম ঐ দক্ষিন দুয়ারী ঘরে টেবিলের ড্রয়ারে রক্ষিত ৪০,০০০/-(চল্লিশ) হাজার ও সাটের পকেটে থাকা ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা, সহ মোট (নব্বই হাজার) টাকা আসামী রবিউল ও সালাম চুরি করিয়া লইয়া যায়।

বাদী বাঁধা প্রদান করিলেও বিবাদীরা টাকা চুরি করার সময় বাদীকে তহির উদ্দিন, কাদের আলী, ছাত্তার বাদীকে পাঞ্জা করিয়া ধরিয়া মাটিতে ফেলিয়া দেয় সে সময় চিৎকার দিলে আসামী রুপালী কাসার থালা ১টি মুল্য ২,০০০/-টাকা, ১টি কাসার বাটি ১০০০/-টাকা চুরি করিয়া দক্ষিন দুয়ারী উত্তর ঘর হইতে নিয়ে যায়। উক্ত দক্ষিন দুয়ারী ঘর হইতে আসামী কারিমা ২টি সিলভারের পাতিল যার মূল্য ১০০০/-টাকা, ১টি পুরাতন হাত ঘড়ি মূল্য ১০০০/-টাকা, মূল্য ৩২০০/-টাকা সর্বমোট ৫,২০০/-টাকার মালামাল চুরি করিয়া লইয়া যায় বলে বাদী তার মামলায় উল্লেখ করেন।
আসামীদের চুরির ঘটনা সকল সাক্ষী গন জানে শুনে এবং দেখিয়াছে। বাদী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহনে বিলম্ব হওয়ায় অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। বাদীকে অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোর্টে মামলার করার পরামশ দেন জন্য অত্র মামলা করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল। আসামীরা হলো,,,
১। মো: রবিউল ইসলাম, পিতা- মো: সাত্তার ফকির
২। মো: সালাম হোসেন,৩। মো: ছাত্তার ফকির৪। মো: তহির উদ্দিন৫। মো: আব্দুল কাদের আলী পিতা-(২-৫) মৃত দশ ফকির৬। মো: মুক্তার, পিতা মৃত তোজাম্মেল মোল্লাহ
৭। মোছা: রূপালী, স্বামী- মো: আব্দুস ছাত্তার৮। মোছা: কারিমা, স্বামী আব্দুস ছালাম ফকির৯। মোছা: শ্যামলী, স্বামী- কাদের আলী সর্বসাং- গ্রাম- লক্ষীমন্ডপ, ডাকঘর- জিয়ানগর, উপজেলা- দুপচাঁচিয়া, জেলা- বগুড়া।
বিজ্ঞ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আসামিরা দলবদ্ধ হইয়া বেআইনিভাবে বসতবাড়িতে হামলা করিয়া লুটপাট ও ভাঙচুর করে।সেই সাথে বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট ও চুরি করিয়া লইয়া যায়

ঘটনার স্থানঃ বাদীর বসত বাড়ীতে আর,এস দাগ১৫০২ জে.এল নং-৭ মৌজা লক্ষীমন্ডপ থানা-দুপচাঁচিয়া জেলা-বগুড়া।
উল্লেখ্য যে বিবাদী কর্তৃক বাদীর বিরুদ্ধে দেওয়া ১৪৪ নং মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও আসামিগণ আবারও দলবদ্ধ হইয়া হুমকি ও মারপিট করিতে আশায় প্রাণভয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে ইয়াসিন আলীকে। এ ঘটনায় সরজমিনে গ্রামে গেলে আসামী পক্ষরা সাংবাদিকদের সামনেই বাঁদিকে মারমুখী অবস্থার সৃষ্টি করে প্রাণভয়ে বাদীকে নিয়ে সেখান থেকে দ্রুত চলে আসা হয়।ইয়াসিন আলী বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছে মামলাটি দুই দুইবার তদন্ত হলেও তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করা হয়নি বলে ইয়াসিন আলী সাংবাদিককে জানিয়েছেন।
ইয়াসিন আলী আদালতে উক্ত প্রতিবেদনের না রাজি করেন। বিজ্ঞ আদালতের ন্যায় বিচারের আশায় নিজ বাড়ি থেকেও প্রাণভয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। মামলার বাদী ইয়াসিনকে।বিজ্ঞ আদালতের ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন ইয়াছিনা আলী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইয়াসিন আলীর বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ১৬ মাচ ২০২৬ তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়
বিষয়: মামলা নং-২০০ দি/২০২৫ (দুপচাঁচিয়া) এর সরজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন।
সূত্র: বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ বগুড়ার পত্র মোতাবেক মামলা নং ২০০ সি/ ২০২৫(দুপঃ)
২৭-১১-২০২৫ তারিখে সরেজমিনে তদন্ত করার দিন ধায্য করে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে নোটিশ উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ বগুড়া মামলা নং-২০০ সি/২০২৫ (দুপচাঁচিয়া) প্রদান করা হয়।

উক্ত তারিখে উদয়পক্ষকে যথাসময়ে উপস্থিত না পাওয়ায় গত ০৮/০১/২০২৬ইং আরিখে পুনরায় তদন্ত করার দিন হয়।বাদী জনাব মো. ইয়াছিন আলীর লিখিত সময় প্রার্থনায় প্রেক্ষীতে ১০-৩-২৬ তারিখে পুন: দিন ধার্য্য করা হয়। তদানুযায়ী গত ১০/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখে ঘটনাস্থলে তদন্ত করেন। সেসময় উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায় ঘটনার মূল সূত্র জমি নিয়ে বিরোধ। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে বিজ্ঞ দুপচাঁচিয়া সহকারী জজ আদালতে ১৪৪/২০২৩ বণ্টন মামলা হলে বিগত ১৯/০১/২০২৫ খ্রি. তারিখে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাদী ইয়াছিন আলীর বাউন্ডারীকৃত জমির ও বসতবাড়ীর উপর স্থিতি অবস্থা (Statuesque) জারি করেন।
মামলার বাদী ইয়াছিন আলীর ভাষ্যমতে ১২/০৩/২০২৫ খ্রি. ঘটনায় দিন বিকাল ৪ ঘটিকায় আসামীগন লোহার গেট (প্রধান ফটক) ভেঙ্গে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে তার উপর আক্রমণ করেন এতে বাদী বাম কাধে আঘাত প্রাপ্ত হন। এছাড়াও ভাংচুর বাবদ ৩০,০০০/- টাকার ক্ষতি এবং ৯৭,২০০/- টাকার মালামাল চুরি হয়। কিন্তু বিবাদীগণের ভাষ্যমতে ৭ হতে ১ নং বিবাদী রাস্তা করে হাড়িপাতিল সহ ফেরার পথে উক্ত বিবাদীবৃন্দের গায়ে এবং রান্না করা খাবারে বাদী ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি দেয়। এতে উক্ত ৩ বিবাদী প্রতিবাদ করলে বাক-বিতক হয়, ১-৬ নং বিবাদীগন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার আরজীতে বর্ণিত সাক্ষীদের মধ্যে ১,২,৫.৮ ও ১১ নং সাক্ষীগন ১২/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখে বাদীর সাথে বিবাদীগনের বাকবিতন্ডার ঘটনা সত্যয়ন করলেও মারামারি এবং চুরির ঘটনার সত্যায়ন করেননি। বাকী অন্যান্য স্বাক্ষীদের বাদী হাজির করতে না পারায় তাদের স্বাক্ষি নেয়া সম্ভব হয়নি। এতে ধারনা করা হয় যে মামলা তদন্তকারী পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সরজমিনে লক্ষিমন্ডব এলাকার উপস্থিত না হয়ে বিবাদীগনের কথামত তদন্ত তার অফিসে বসে তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেছেন। এদিকে গত ১৫-৪-২৬ ইং তারিখে লক্ষ্মীমন্ডব গ্রামে সংবাদকর্মীরা গেলে গ্রামবাসীর মধ্যে নজু,শাহিন,হারুন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলামসহ অনেকেই আসামিদের বিরুদ্ধে মারামারি ও গেট ভাংচুরের কথা বলেছেন।
পর্যবেক্ষণ।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাদী বিবাদীর মধ্যে এর আগেও একাধিকবার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবিকতায় ১২/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। বাদীর আরজিতে বর্নিত কতিপয় সাক্ষী এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যে উক্ত দিনে ঝগড়া বাকবিতন্ডার ঘটনা প্রমানিত হলেও চুরি এবং মারামারির ঘটনা প্রমানিত হয়নি বলে তদন্ত কারী অফিসার রিপোট করেন।
মন্তব্য: সংযুক্ত সকল জবানবন্দী ও সরজমিনে তদন্ত পূর্বক তদন্তকারী কর্মকর্তা মনে করেন, বাদী-বিবাদীগণের মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে প্রায়শ ঝগড়া বিবাদ হয়ে থাকলেও বিবাদীগণ কর্তৃক বাদীর দরজা ভেঙ্গে বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করে টাকা পয়সা, গয়না চুরি করার বিষয়টি সত্য যা সাক্ষী নজু হারুন শাহিন প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।
এছাড়াও গ্রামের একাধিক ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলে লক্ষ্মীমন্ডল গ্রামবাসীরা জানান বিবাদীরা অত্যন্ত কলহ প্রিয় লোক হিসেবে তাদেরকে অভিহিত করেছেন।নিরপেক্ষভাবে পূর্ণ তদন্ত করা হলে বিবাদী গণেরা মামলায় আসামী সাব্যস্ত হতে পারেন বলে গ্রামবাসিসহ অভিজ্ঞ মহল মতামতব্যক্ত করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.