
রংপুর ব্যুরো:রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজে নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা শিক্ষা প্রশাসন। এদিকে,এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট আলাদাভাবে তিনটি অভিযোগ প্রদান এবং আল্টিমেটাম দিয়েছে উপজেলা শিক্ষক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পীরগাছা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জিল্লুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা চঞ্চলসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ এনায়েত হোসেনের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের আর্থিক দুর্নীতির অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেন। এতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন,কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা শিক্ষক সমাজের জন্য সম্মানহানিকর। তাঁরা অবিলম্বে এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় তহবিলের অর্থ আত্মসাৎসহ যাবতীয় দুর্নীতির নিরপেক্ষ্য তদন্ত দাবি করেন। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানান, দ্রুতত্ম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা সাধারণ শিক্ষকদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। অপর দিকে,স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান প্রতিষ্টানেররিজার্ভ ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গ্রামের ভিতরে বিলাশ বহুল ডুপ্লেক্স বহুতল একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি রিজার্ভ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে আজও তা সঠিক নয় এবং তিনি আরো বলেন, যারা এই দায়িত্ব পাইনি তারাই এসব বলছে। বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণের বিষয় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইতি মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সরেজমনে তদন্ত করেছে। শিক্ষক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনার পর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ এনায়েত হোসেন পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনিও বলেন,“ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটলে এবং বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রিজার্ভ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।” অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করা হবেও আশাশ^ দেন। উল্লেখ্য,কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গচ্ছিত অর্থ লুটপাট এবং নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ বিধি বহির্ভূতভাবে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল বারীকে বাদ দিয়ে আট নম্বর জুনিয়র শিক্ষক মোঃ ঈসা খানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষক ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে। উপজেলা শিক্ষক সমিতির এই সরাসরি অবস্থানে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,শিক্ষক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের অনিয়ম রোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.