
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড দিঘলটারী গ্রামের ডিগ্রীর চর নামক স্থানে ১৩বছর আগে (২০১৩ সালে) ব্রীজটি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। পর স্থানীয় জনগণ নিজস্ব উদ্যোগে একটি কাঁচা মাটির রাস্তা নির্মাণ করে। ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের ডিগ্রীর চর এলাকার পাশাপাশি মোগলহাট ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের হাজারও পথচারী যাতায়াত করে। তবে শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো নানা দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৪বছর আগে দীঘলটারী গ্রামের ডিগ্রীর চরে ২০১২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকল্পের আওতায় একটি ব্রীজ নির্মিত হলেও মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই ব্রীজটির খণ্ডিত অংশ পানিতে ডুবে আছে। ব্রীজের বাকি অংশ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ফলে দীঘলটারী এলাকার ডিগ্রীর চরের মানুষের রাস্তা-ঘাট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার কারণে, ১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মানুষ ১৩বছর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা। অসুস্থ রোগীকে কাঁধে করে নদী পার করা, স্কুল-কলেজের পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা এবং কৃষি পণ্য ঘরে তুলতে অতিরিক্ত ভোগান্তি সবই এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীঘলটারী গ্রামের ডিগ্রীর চরের বাসিন্দা মোঃ নুরুল হক (৮৫) বলেন, ব্রীজ ও রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রীজটি ভেঙে পড়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ১শত ৮৫টি পরিবারে ৫শত থেকে ৭শত মানুষ এখানে বসবাস করছে। ব্রীজ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের স্থায়ী দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। রোগীর সেবায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ব্রীজটি দ্রুত পুনঃনির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।
উত্তর গোব্ধা গ্রামের মোঃ আনছার আলী (৫১) বলেন, ব্রীজের অভাবে ফসল আনা-নেয়া করতে সমস্যায় পড়তে হয়। কাদা-পানি মাড়িয়ে কাঁধে করে ফসল বহন করতে হয়। শ্রমিক খরচও বেড়ে যায়।
১নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল-২) মোঃ সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত দীঘলটারী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন ব্রীজ নির্মাণের জন্য আবেদন পত্রে উল্লেখ করে বলেন, অত্র ইউনিয়নের বিজিবি ক্যাম্পের পার্শ্বের রাস্তায় ব্রীজ না থাকায় বর্ষাকালে অতিরিক্ত কাঁদা ও জলাবদ্ধতার কারণে বিজিবি জওয়ানদের নিয়মিত টহল কার্যক্রমসহ এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায়, উক্ত গ্রামের দুই পার্শ্বের জনগনের জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উক্ত রাস্তায় দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিধান কান্তি হালদার, এলজিইডি আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী এ,কে,এম ফজলুল হক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ পারভেজ রুবেল স্বাক্ষরিত দেশব্যাপী গ্রামীন সড়কে গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পে ডিপিপিভুক্ত করণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ব্রীজের তালিকার মন্তব্যে বলেন, উক্ত সড়কে ৩০০মি চেইনেজে অবকাঠামোটি ২০১৩ সালের ভারতের উজান থেকে থেকে নেমে আসা বন্যার পানির স্রোতে বিলীন হয়ে যায়। উক্ত ব্রীজটি ভারতীয় বর্ডার সংলগ্ন ২টি গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় জনসাধারনের চলাচলের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উল্লেখ্য যে, ব্রীজ সংলগ্ন বিওপি ক্যাম্প অবস্থিত। উক্ত ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যগণের বর্ডার সুরক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটে ফলে বিওপি ক্যাম্প ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একটি নতুন ব্রীজ নির্মানের জন্য আবেদন করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.