প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৭, ২০২৬, ২:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৫:২৬ পি.এম
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ ট্র্যাজেডী: মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, নিহত বেড়ে ৫

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬) ও আশুরা আক্তার পাখি (৩৫)। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাদের শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। নিহত শাখাওয়াত হোসেন পেশায় একজন মোটর পার্টস ব্যবসায়ী।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে চিকিৎসাধীন অপর চারজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সামির আহমেদ সুমন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম মৃত্যু হয় নুরজাহান আক্তার রানী ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওনের।
নিহত ও আহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, জীবিত চারজনের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের জীবন রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওই বাসার রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় গ্যাস জমে ছিল। ভোরে আগুনের সংস্পর্শে আসতেই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফ্ল্যাটে থাকা একই পরিবারের নয়জন সদস্য দগ্ধ হন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নার চুলা থেকে গ্যাস লিকেজের কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতরা হলেন মো. সাখাওয়াত হোসেন, তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, তাদের ছেলে শাওন, সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন ও তার স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি।
আহতদের মধ্যে রয়েছে সাখাওয়াতের কন্যা উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সুমনের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের ছোট ভাই শিপন হোসেন।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.