রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের উদ্যোগে ওই সমাবেশ শুরু হয়। এতে গুরুদাসপুরের ছয়টি ইউনিয়ন এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিকেল ৪টার দিকে মঞ্চের সামনে কালো টেপে মোড়ানো বস্তুটি কয়েকজন নেতাকর্মীর নজরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের উদ্যোগে বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাবেশ চলাকালে নেতাকর্মীরা সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে তিনি নিজেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করেন। এটি ককটেল নাকি বোমা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। কারা বস্তুটি সেখানে রেখে গেছে, তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে বস্তু উদ্ধারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলমান। সম্প্রতি গুরুদাসপুরের ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় সংসদ সদস্যের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ঘটনায় আরো দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে সংসদ সদস্যকে ঘিরে একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় রাজনীতিতে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান বাবলু, আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজাউদ্দৌলা সুজনসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সংসদ সদস্যের বিরোধিতা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া শাকিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ।
এসব ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপের মুখে গত ২৯ অক্টোবর থেকে সংসদ সদস্য সপরিবারে নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে তিনি নিজ এলাকায় ফেরেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিতে রবিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
তবে একই দিন একই স্থানে সমাবেশের ডাক দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজাউদ্দৌলা সুজন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের নেতৃত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা সেখানে যোগ দেননি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যেই সমাবেশস্থলের মঞ্চের সামনে সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা বস্তুটির প্রকৃত ধরন এবং কারা এটি সেখানে রেখেছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
উদ্ধার করা বস্তুটি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় নতুন করে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এখন সেটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় স্থানীয়রা।
এদিকে সম্প্রতি এমপি আব্দুল আজিজ এর একটি অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় জেলা বিএনপিও অনেকটা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আব্দুল আজিজ কে বহিষ্কার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ পাঠানো কে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি অক্ষমত্য পোষণ করলেও আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ সে ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানান। পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা কেন্দ্রীয় বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চললেও আদেশ সমর্থকরা তাদেরকে হুমকি দাম কি প্রদান করছেন বলে জানা যাচ্ছে।
আজকের সমাবেশে এমপি আব্দুল আজিজ শাকিল হত্যার বিচার প্রত্যাশা করলেও তার ভিডিও সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।