এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, মুন্না রহমান মুন্না (৩৫), রবিন (৩০) এবং সোহেল রানা (২৮)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিনই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্না জড়িত ছিলেন। তাঁরা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে আসছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচরণপুর দক্ষিণপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না রহমান মুন্নাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাদেবপুরের ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে ও উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিন কে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাসা তল্লাশি চালিয়ে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও পিকআপ চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামি মুন্নার বিরুদ্ধে আগে একটি চুরির মামলাসহ আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার সরকারি গোডাউনের পাশে অবস্থিত মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আবদুল আলিম জনৈক নাসির মাস্টারের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ভাঙারির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আবদুল আলিম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
গত মঙ্গলবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির জন্য দোকানের ব্যবস্থাপক ও চাচাতো ভাই মজনু মিয়া এবং পিকআপচালক সোহেল রানা পিকআপটি নিয়ে বগুড়ায় যান। সেখানে ভাঙারি মালামাল বিক্রি করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন তাঁরা।
পথে উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে পিকআপটি হঠাৎ করেই বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেল রানাকে মারধর করে এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মজনুকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পিকআপচালক সোহেলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিনতাই ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সাথে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করেন।
পরে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে বাকি ১০ হাজার টাকা ৮ ঘণ্টার মধ্যে কি হলো জানা যায়নি।
ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনের বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ইতিমধ্যে রবিনকে জেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।