প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:১১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৭:২১ পি.এম
ছেলের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর ভয়ে দুই বছর ঘরছাড়া মা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিবাহ বিচ্ছেদের দুই বছর পরও স্বামীর বাড়ি ছাড়ছে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী। এ নিয়ে থানা পুলিশ ও সালিশ দরবার করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক স্বামী শওকত হোসেন ও তার মা বোনেরা ঘর ছাড়া দুই বছর। উল্টো একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া গ্রামে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাবেক স্বামী শওকত হোসেনের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রবাসী শওকত হোসেন, তার মা ও গ্রামবাসী।
লিখিত বক্তব্যে শওকত হোসেন দাবী করেন, টিকটকের মাধ্যমে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার লস্করপুর গ্রামের ইব্রাহীম মাস্টারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সাথে।২০১৯ সালের ১লা মার্চ মামাকে সাথে নিয়ে কনে হিসেবে জেসমিনকে দেখতে গেলে জোরপূর্বক জেসমিনের সাথে শওকতের বিয়ে দিয়ে দেয় জেসমিনের স্বজনরা। এ ঘটনার পর সমাজের মুরুব্বীদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে শওকত। তারপর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ। বিভিন্ন হুমকি ধামকির প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের জুলাই মাসের ৭ তারিখে জেসমিনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে শওকত। কয়েকমাস পর কাতার চলে যায় শওকত এবং এর মধ্যে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তারপর থেকে জেসমিন বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার দাবী করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় জেসমিনকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার দেন শওকত। তবুও শান্তি ফেরেনি সংসারে। জেসমিন উল্টো শওকতের মা বোনদের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। এর মধ্যে তাদের আরেকটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে বনিবনা না হওয়ায় একপর্যায়ে কাতার থেকে জেসমিনকে তালাক দেন শওকত। জেসমিন সেই তালাক আইনগত হয়নি দাবী করলে শওকত দেশে ফিরে গত বছরের মার্চ মাসে পুনরায় আদালতের মাধ্যমে জেসমিনকে তালাক দেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে জেসমিন শওকতের মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং তার বোনদেরকে বাড়িতে আসতে দেয় না। এমনকি সে সারাক্ষণ ঘরের ভেতর সশস্ত্র অবস্থায় থাকে এবং এভাবেই গত দুই বছর সাবেক স্বামীর বাড়ি দখ আছে।
এ ঘটনায় সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর শওকত বাদী হয়ে উপজেলার কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জেসমিন আক্তার ভুয়া স্ট্যাম্প বানিয়ে প্রবাসী শওকতের কাছে ৯ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার পাবে বলে মিথ্যাচার করে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামের সালিশদার মো: সাহাব উদ্দিন বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পর ওই নারীকে তার পাওনা বুঝে নিতে বহুবার গ্রাম ও থানায় সালিশ দরবার হয়েছে। সেখানে ওই নারীকে তার পরিবার নিয়ে আসতে বলা হয়। পাওনা বুঝে নিতে তার পরিবারের সদস্যদেরকেও আনতে বলা হয়। কিন্তু সে তা না করে উল্টো একের পর এক মামলা করে শওকতের পরিবারকে হয়রানি করছে। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে শওকতের মা মাসুমা আহম্মেদ অভিযোগ করেন, ছেলের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী জেসমিক আক্তার আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বিভিম্নভাবে হুমকিধামকি দেয়। গত দুই বছর আমি ঘর ছাড়া।
এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তকারী কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো: আশিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরজমিনে তদন্ত করছি। জেসমিন আক্তার সাবেক স্বামীর কাছে বিভিন্ন পাওনার কথা বলেছেন কিন্তু তার কাছে সেগুলোর কোনো উপযুক্ত প্রমাণ নেই। জেসমিন আক্তার তার দাবীকৃত পাওনা বুঝিয়ে না দিলে সাবেক স্বামীর ঘর ছাড়বেন না বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.