
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীরে অবস্থিত আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকশ মিটারের মধ্যে চলমান এ তৎপরতায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে তীরের মাটি দুর্বল হয়ে পড়লে হুমকির মুখে পড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, আশপাশের স্থাপনা ও নদীর তীর রক্ষায় নির্মিত ব্লক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত গভীর হলেই আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের তৎপরতা শুরু হয়। চলে ভোর পর্যন্ত। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত বলে অভিযোগ থাকলেও ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে নদীভাঙনে একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নতুন করে বসতি গড়া পরিবারগুলোর মধ্যে আবারও ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে নদীর তীর রক্ষায় স্থাপন করা ব্লকও।
শুধু আরামবাড়িয়া নয়, রূপপুর ফুটো মার্কেটসহ ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের বিভিন্ন স্থানেও বিচ্ছিন্নভাবে বালু উত্তোলনের তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে নদী থেকে বালু উত্তোলন, এর নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে নদীর তীর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতির নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাঁরা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ করা কঠিন।
তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন আনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “স্কুল থেকে অনেক দূরে মেশিন বসানো, এতে কোনো সমস্যা হবে না। আর আমরা বালু নিয়ে আসতেছি অনেক দূর থেকে, এখানে শুধু আনলোড করি; কোনো বালু উত্তোলন করি না।”
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “পাবনা জেলায় কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.