
ভালুকা ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ময়মনসিংহের ভালুকায় এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় অসুস্থ হয়ে তাসনিমা আক্তার (৩০) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে কারখানায় কাজ করার সময় অসুস্থ হলে প্রথমে তাকে কারখানার ভেতরে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অসুস্থ বোধ করার পরও ছুটি না দেয়ায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের সহকর্মীরা। তাসমিনা আক্তার নেত্রকোনার চল্লিশাপাড়া এলাকার মো: ফজলু মিয়ার মেয়ে। তিনি ওই কারখানায় ফিনিসিং সেকশসের অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পর কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা কাজ বন্ধ রেখে কারখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন। সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় তাজমিনা অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে ছুটি না দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয় বলে দাবি করেন সহকর্মীরা। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাজমিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং কর্মস্থলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্মস্থলে কোনো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দাবি, তাজমিনার অসুস্থতার পর তাকে ছুটি দেয়া হয়েছিল কি-না এবং হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কি-না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। তবে, এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভালুকা শিল্প জোন-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই শ্রমিক সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি আজ সকাল ৮টার দিকে কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারে সমস্যার কারণে চিকিৎসা নিতে যান। তিনি আরো জানান, কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা: জ্যোতি শুভ পাল তার সমস্যার কথা জেনে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং শ্বাসকষ্ট দূর করতে অক্সিজেন সাপোর্ট প্রদান করেন। ১৫-২০ মিনিট পর তার অবস্থার অবনতি হলে কারখানার অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন নার্সসহ মোট তিনজন মেডিক্যাল স্টাফ দিয়ে প্রথমে তাসনিমাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাথে সাথেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক একই অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল স্টাফসহ সহযোগে শ্রমিক তাসনিমা আক্তারকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.