প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৭:২৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ৭:১২ পি.এম
গোমনাতীর পরিত্যক্ত ফরেস্ট এখন নতুন রুপে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে

রবিউল হক , ডোমার (নীলফামারী ) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ৩নং গোমনাতী ইউনিয়নের পরিত্যক্ত বন এখন নতুন রুপে বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে উত্তর গোমনাতীর ফরেস্ট বাগানটি।
একসময় এই বাগানটি ছিল গবাদিপশুর চারণভূমি জনমানবহীন এবং অবহেলিত। অথচ সময় ও কালের বিবর্তনে আজ সেই স্থানটি পরিণত হয়েছে মানুষের অবসর সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে উন্মুক্ত খোলা আকাশের নীচে বিনোদনের গন্তব্যে বা ঠিকানা। পূর্ব পুরুষের মুখে বিনোদনের এই ফরেস্ট বাগানটির কথা শুনতে গেলে তাদের কাছে মনে হবে রুপকথার কাহিনী। বর্তমানে রুপকথার সেই কাহিনী আজ বাস্তবে রুপদান করে গড়ে উঠেছে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের বিনোদনের একমাত্র কেন্দ্রস্থল গোমনাতীর ফরেস্ট এলাকাটি।
ডোমার উপজেলার ৩নং গোমনাতী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত উত্তর গোমনাতী ফরেস্ট। এর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট নদী, নদীর পাশেই ভারতীয় সীমান্ত, সবুজ গাছপালা আর প্রাকৃতিক পরিবেশের টানে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন শিশু, কিশোরসহ নানা বয়সের দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের আগমনে জায়গাটি একটি সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিকেল হলেই প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে শিশু কিশোরসহ সববয়সী মানুষের আনাগোনা। কেউ আসছে পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ আসে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সময় কাটাতে, আবার কেউ ছুটে আসছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
বর্তমানে ফরেস্টের ভেতরে নির্মিত কাঠের সেতুটি দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, বাচ্চাদের নিয়ে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি সবুজের সমারোহের প্রাকৃতিক পরিবেশে যেন জায়গাটি প্রানবন্ত ও চমৎকার রুপে পরিনত হয়েছে। এবং সেইসাথে দিনদিন এলাকাটির পরিচিতি সকলের মুখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছে।
দর্শনার্থীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ছোট-বড় বিভিন্ন দোকানপাট। চা-প্রেমীদের জন্য রয়েছে ‘চা বিলাস’ নামে একটি চায়ের স্টল। পাশাপাশি পুকুরের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ভাসমান রেস্টুরেন্ট। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের জন্য তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আয়ের নতুন সুযোগ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় উত্তর গোমনাতী ফরেস্টের এই জায়গাটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এইতো কিছুদিন আগে এই জায়গাটিতে গরু, মহিষ ও ছাগল চরানো ছাড়া মানুষের তেমন আনাগোনা ছিল না। অথচ কালের বিবর্তনে জায়গাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ও বিনোদনের প্রতীক হয়ে মানুষের নজর কেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দর্শনার্থীদের আগমনে দিন দিন বদলে যাচ্ছে এলাকার চিত্র। পাশাপাশি এখানে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মানের কারণে পার্শ্ববর্তী ডিমলা উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ এলাকার মানুষের সঙ্গে গোমনাতি হয়ে ডোমারে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গোমনাতী ফরেস্টে পিকনিক করতে আসা রুবেল মিয়া বলেন, একসময় এই গোমনাতী ফরেস্ট প্রায় জনশূন্য ছিল। অথচ সময়ের ব্যবধানে এখানে গড়ে উঠেছে বিনোদনের কেন্দ্রস্থল। এখানে অনেক দুর দুরান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। তবে যাতায়াতের যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া অনেকটাই সহজ হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।’
এবিষয়ে কথা হয় ওই এলাকার রনজিনা বেগম নামে এক নারীর সাথে পর্যটন কেন্দ্রিক এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় নারীদেরকে নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি নিজের হাতের তৈরি আচার, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সিদলসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার ও পণ্য বিক্রির জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন ‘হামার পাকের ঘর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
রনজিনা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। বিনোদন কেন্দ্র এই ফরেস্ট এলাকাটি সরকারের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন যদি উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে আমার মতো আরো অনেক নারীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দ্যোগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তর গোমনাতী ফরেস্টকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে সৃষ্টি হবে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, উত্তর গোমনাতী ফরেস্ট সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জায়গাটির উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.