
মাকসুদুল হক ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি: বুধবার ৬ অক্টোবর : ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্ত্বরে নির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত যুবক আব্দুর রহমান সম্রাট (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে আদালতের রায়ে তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও তীব্র ক্ষোভ:
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্ত্বরের সাদা রঙের ভাস্কর্যটির মাথায় রশি দিয়ে জুতার মালা ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে এই অবমাননাকর ঘটনার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি সরিয়ে নেন।
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার পরপরই অপরাধীকে শনাক্ত করতে তৎপরতা শুরু করে জেলা পুলিশ। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, জেলা পুলিশের একাধিক টিম ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চত্বর ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশদভাবে পর্যালোচনা করে। এরপর মঙ্গলবার রাতেই শহরের কাঞ্চননগর এলাকা থেকে আব্দুর রহমান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে কাঞ্চননগর গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট একাই এই অবমাননাকর কাজের সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান জানান, "সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালতের রায়ে তাকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।"
কথিত মানসিক রোগী দাবি:
এদিকে গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া যুবক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং তিনি একজন মানসিক রোগী। তবে পুলিশ এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা উস্কানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ভাস্কর্যটিকে ঘিরে বারবার বিতর্ক:
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-যশোর ও ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লিংক পয়েন্টে এই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্ত্বরটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। চত্বরটিতে বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি প্রতীকী ভাস্কর্য রয়েছে।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দফায় এই ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর চলতি বছরের (২০২৬) গত ১৩ জুলাই থেকে একটি চক্র পুনরায় ভাস্কর্যটি ভাঙা শুরু করলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। কার নির্দেশে দেশের এই সূর্যসন্তানের স্মারকটি অপসারণের চেষ্টা চলছিল, সে বিষয়ে প্রশাসন বা পৌরসভা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। পরবর্তীতে গত ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসন এই ভাঙার কাজ স্থগিত করে। সম্প্রতি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সেখানে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ মেরামতের কাজ চলছে’ মর্মে ব্যানারও টাঙানো হয়েছিল। এই স্পর্শকাতর স্মৃতিস্তম্ভে বারবার আঘাত ও অবমাননার ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এর স্থায়ী নিরাপত্তা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.