
দুলাল সরকার, সৈয়দপুর-নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলা তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাখুলী মুন্সিপাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত মাদরাসার সামনে এই কর্মসূচী পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, এলাকার মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মোতাহার হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, মাহাতাব উদ্দীন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অধ্যক্ষ ২০২০ সালে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদরাসার উন্নয়ন যেমন মুখ থুবড়ে পড়েছে তেমনি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে অধ:পতনের দিকে গেছে। অধ্যক্ষের ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আজ ঐতিহ্য হারিয়ে ক্রমশ ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়াসহ লেখাপড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা আরও বলেন, এই অধ্যক্ষ নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ আত্মসাৎ করেছেন। আর এজন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে মনগড়া ভাবে পর পর কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি (পকেট কমিটি) করে নিজের ইচ্ছেমত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমনকি সাবেক অধ্যক্ষ বিদায়কালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মাদরাসার ফান্ডে রেখে যান তাও তসরূপ করা হয়েছে। ফাজিল ও কামিলের ক্লাস নিয়মিত হয়না। অথচ ২২ জন শিক্ষক এজন্য নিয়োজিত। কিন্তু তারা সচরাচর আসেন না। আসলেও দেরিতে আসে এবং দ্রুত চলে যান। আবার ক্লাস করার দরকার নাই বলে শিক্ষার্থীদেরকেও আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করেন। এতে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরীক্ষায় পাশের জন্য অসদুপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে। পরীক্ষায় নকল করার কারণে গত বছর ফাজিল পরীক্ষার মাঝখানে বোর্ড থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসে সরাসরি হাতেনাতে ধরে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করাসহ কেন্দ্র বাতিল করেন। ফলে পরীক্ষার্থীদের নীলফামারী গিয়ে বাকি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এবারও নীলফামারীতেই ফাজিল ও কামিল পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হবে। ছাত্রী নিবাস বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্রাবাসেও মাত্র ১০ জন থাকে। অথচ ৫ বছর আগেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জমজমাট ছিল এই প্রাঙ্গণ। বক্তারা বলেন, এই এলাকার মহৎ প্রাণ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ১৯৩৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আমাদের পূর্ব পুরুষরাই নানাভাবে সহযোগিতা করে জেলার প্রথম কামিল ও অনার্স পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরেই সেই গৌরব ধুলিস্যাত হতে চলেছে। মাত্র দুইজন শিক্ষককে নিয়ে সিন্ডিকেট করে অধ্যক্ষ সব অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিবাদ করায় অধিকাংশ শিক্ষকই এই সিন্ডিকেটের নির্যাতনের শিকার। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মদ আলীর অপসারণের দাবি জানান এলাকাবাসী। প্রয়োজনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং শিকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দাবি করেন। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সভাপতিসহ কমিটির সদস্য করা এবং সার্বিক উন্নয়ন কাজে তাদের সম্পৃক্ত করার দাবিও জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এখানে আমাদের যেন কোন অধিকার নেই কথা বলার। সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছেন। ফলে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নও স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন থেকে পকেট কমিটি করে মাদরাসাটা যাচ্ছেতাইভাবে চালাচ্ছেন। তারা এমন কর্মকান্ডের প্রতিকার প্রত্যাশা করেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ষড়যন্ত্র মুলকভাবে একটা কুচক্রী মহল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। মূলত: মাদরাসার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং নিজেদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এমন অযৌক্তিক কর্মসূচি পালন করছেন। যা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। এসব কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কারণ আমি সব বিধি মোতাবেকই করেছি।
দুলাল সরকার, সৈয়দপুর-নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ নীলফামারী জেলা তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাখুলী মুন্সিপাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত মাদরাসার সামনে এই কর্মসূচী পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, এলাকার মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মোতাহার হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, মাহাতাব উদ্দীন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অধ্যক্ষ ২০২০ সালে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদরাসার উন্নয়ন যেমন মুখ থুবড়ে পড়েছে তেমনি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে অধ:পতনের দিকে গেছে। অধ্যক্ষের ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আজ ঐতিহ্য হারিয়ে ক্রমশ ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়াসহ লেখাপড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা আরও বলেন, এই অধ্যক্ষ নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ আত্মসাৎ করেছেন। আর এজন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে মনগড়া ভাবে পর পর কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি (পকেট কমিটি) করে নিজের ইচ্ছেমত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমনকি সাবেক অধ্যক্ষ বিদায়কালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মাদরাসার ফান্ডে রেখে যান তাও তসরূপ করা হয়েছে। ফাজিল ও কামিলের ক্লাস নিয়মিত হয়না। অথচ ২২ জন শিক্ষক এজন্য নিয়োজিত। কিন্তু তারা সচরাচর আসেন না। আসলেও দেরিতে আসে এবং দ্রুত চলে যান। আবার ক্লাস করার দরকার নাই বলে শিক্ষার্থীদেরকেও আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করেন। এতে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরীক্ষায় পাশের জন্য অসদুপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে। পরীক্ষায় নকল করার কারণে গত বছর ফাজিল পরীক্ষার মাঝখানে বোর্ড থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসে সরাসরি হাতেনাতে ধরে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করাসহ কেন্দ্র বাতিল করেন। ফলে পরীক্ষার্থীদের নীলফামারী গিয়ে বাকি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এবারও নীলফামারীতেই ফাজিল ও কামিল পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হবে। ছাত্রী নিবাস বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্রাবাসেও মাত্র ১০ জন থাকে। অথচ ৫ বছর আগেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জমজমাট ছিল এই প্রাঙ্গণ। বক্তারা বলেন, এই এলাকার মহৎ প্রাণ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ১৯৩৫ সালে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আমাদের পূর্ব পুরুষরাই নানাভাবে সহযোগিতা করে জেলার প্রথম কামিল ও অনার্স পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরেই সেই গৌরব ধুলিস্যাত হতে চলেছে। মাত্র দুইজন শিক্ষককে নিয়ে সিন্ডিকেট করে অধ্যক্ষ সব অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিবাদ করায় অধিকাংশ শিক্ষকই এই সিন্ডিকেটের নির্যাতনের শিকার। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মদ আলীর অপসারণের দাবি জানান এলাকাবাসী। প্রয়োজনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং শিকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দাবি করেন। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সভাপতিসহ কমিটির সদস্য করা এবং সার্বিক উন্নয়ন কাজে তাদের সম্পৃক্ত করার দাবিও জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এখানে আমাদের যেন কোন অধিকার নেই কথা বলার। সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছেন। ফলে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নও স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন থেকে পকেট কমিটি করে মাদরাসাটা যাচ্ছেতাইভাবে চালাচ্ছেন। তারা এমন কর্মকান্ডের প্রতিকার প্রত্যাশা করেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ষড়যন্ত্র মুলকভাবে একটা কুচক্রী মহল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। মূলত: মাদরাসার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং নিজেদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এমন অযৌক্তিক কর্মসূচি পালন করছেন। যা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। এসব কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কারণ আমি সব বিধি মোতাবেকই করেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.