প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ৫:১৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:০৮ পি.এম
আমিনুল রাসেল গংদের নেতৃত্বে পলাশবাড়ীতে বালু উত্তোলনের হিড়িক!

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কৃষিজমি ও নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে ড্রেজার ও ভেকু বসিয়ে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং বালু উত্তোলনের যন্ত্র ভাঙচুর করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরপরই আবার চালু করা হচ্ছে ড্রেজার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি পৃথক পয়েন্টে মাটি ও বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিন-রাত অবাধে এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর ও স্থায়ীভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এর মধ্যে উপজেলার ১ নম্বর কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের প্রজাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিনুল ও রাসেলের নেতৃত্বে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলন করে নতুন বাড়ির জায়গা ভরাট এবং বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাদি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে মাটির গভীর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের প্রায় ৫০ একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষিজমির মাটি ও বালু সরে গেলে জমির উর্বরতা কমে যাওয়া, ভাঙন সৃষ্টি এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানানো হলে প্রশাসনের নির্দেশে কয়েকদিন ড্রেজার বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন। বৃহস্পতিবার দিন-রাত এবং শুক্রবার দিনেও মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, “আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের অনেক জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
গৃহিণী মৌসুমি বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন চলছে। পুলিশ এসেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা নাকি সবাইকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির কাছ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় বালু উত্তোলনের ঘটনায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা আমিনুর মিয়া ও রাসেল বলেন, “সবাইকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আজকের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।” তবে কার সঙ্গে কীভাবে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহাবুব বলেন, “আমি জানতাম না ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেদিন পুলিশ আসার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “বালু তোলার বিষয়টি জানার পরপরই কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। গত ১৫ দিনে ৬-৭টি অভিযানে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বালু উত্তোলনের মেশিন ভেঙে দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.