প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১:২১ এ.এম
ভালুকায় চুরির অপবাদে যুবককে মারধর, মৃত্যু দুই থানার ঠেলাঠেলিতে আইনি পদক্ষেপ অনিশ্চিত

স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহের ভালুকায় চোর সন্দেহে সুজন মিয়া (৩৫) এক যুবককে বেধেঁ মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় গাজীপুরের শ্রীপুরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে স্থানীয়রা তাকে জীবিত উদ্ধার করলেও কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। বরং ঘটনাটি ভালুকায় শুরু হলেও মৃত্যু শ্রীপুরে হওয়ায় দুই থানার মধ্যে মামলা নেয়ার এখতিয়ার নিয়ে এক ধরনের ঠেলাঠেলি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত সুজন মিয়া শেরপুরের শ্রীবর্ধী উপজেলার ভেলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন এর আবদার পাড়ায় ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় ' মুরাদ ইলেকট্রনিকস ' নামের একটি দোকান এ চুরি হয়। এরপর চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাকে বেধেঁ মারধর করা হয়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় পরে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে তাকে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় নিয়ে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হয়।
স্থানীয়রা সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় সুজনকে জীবিত উদ্ধার করে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। পরে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যাবস্থা করে। মর্গ সূত্রে জানা গেছে, সুজনের ফুফাত ভাই সজীব মিয়া ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রহন করেন। পরে লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের চাচা মানিক মিয়া বলেন, সুজন নিরীহ ও নির্দোষ ছিল। চোর সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়েছে। সজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। তারা স্বাভাবিক হলে পারিবারিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও কে ঘিরে ঘটনার তদন্তে নতুন সূত্র পেয়েছে পুলিশ। ভিডিওতে এক যুবককে মারধর করতে দেখা যায়। সেটি সুজনকে মারধরের ভিডিও কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থান- কাল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, শ্রীপুরে ময়লার ভাগাড়ে স্থানীয়রা সুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সে মারা যায়। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর ব্যাবস্থা করি৷ শ্রীপুরে মারা গেলেও ঘটনা ঘটেছে ভালুকায়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে ঘটনাটি ভালুকা থানা এলাকায়। তাই আমরা ভালুকা থানাকে ব্যাবস্থা নিতে বলেছি।
অন্যদিকে ভালুকা থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর থানার ওসি আমার থানায় মামলা নেওয়ার জন্য আমাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ৭ তারিখ শেষ রাতে সুজনকে মারধর করা হয়েছে, ৮ তারিখ সন্ধায় শ্রীপুরে তার মৃত্যু হয়েছে। তাই শ্রীপুর থানায় মামলা হয়ে তদন্ত হলেই পেছনের ঘটনা বেরিয়ে আসবে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা আমাকে এটিই জানিয়েছেন।
পুলিশের দুই থানার বক্তব্য মামলা দায়েরের দায়িত্ব কোন থানার - তা নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে সুজন চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাকে কারা আটক ও মারধর করেছিলেন এবং আহত অবস্থায় কারা তাকে শ্রীপুরে নিয়ে গিয়েছিল - এসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।
চুরির অভিযোগ থাকলেএ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাওকে আটকে মারধর করার বৈধতা নেই। সুজন সত্যিই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে মারধর করা হয়ে থাকলে সেই ঘটনার দায় ও নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্ম গোপনে রয়েছেন। ' মুরাদ ইলেকট্রনিকস কর্মচারীরা দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে জানালেও সুজনকে আটক, মারধর বা শ্রীপুরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হন নি। দোকান মালিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ এর চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
ঘটনার দশ দিন পরেও মামলা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, একজন মানুষকে চোর সন্দেহে আটকে মারধর করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত ও আইনি দায় নির্ধারণে আর কত সময় লাগবে।
ঘটনার পর থেকে চুরি হওয়া দোকানের মালিক সহ জড়িত অপরাপর ব্যাক্তিদের বাঁচাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.