নওগাঁর মান্দা উপজেলার পার-প্রসাদপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন দরগাতলা (বিশ্ববাঁধ) মোড়ে চোরাই পুরাতন একটি মোটরসাইকেলসহ মাহফুজুর রহমান সবুজ (২৬) নামে একক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সোয়া ১১ টার দিকে আটকের এ ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মোটরসাইকেলটি জব্দ ও সবুজকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। পরে সবুজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা চা বিক্রেতা সুবল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সুব্রত কুমার দেবনাথ(২২) কে আটক করা হয়।
তবে মোটরসাইকেল চুরির এ ঘটনায় জড়িত আছে ৩ জন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে আটক সুব্রত। এর মধ্যে প্রধান মোটরসাইকেল চুরির কাজে অভিযুক্ত হলেন প্রসাদপুর গ্রামের জনৈক মৃত নরেশের ছেলে চঞ্চল কুমার (২৪) ও অন্যজন হলেন গাড়িক্ষেত্র গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে শুভ (২৮)। ঘটনাটি জানাজানির পরে দুইজনই বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত কালীপূজার সময় খুদিয়াডাঙ্গা কালীমন্দির মেলা প্রাঙ্গন থেকে ৭ং প্রসাদপুর ইউপি'র ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য ঈসমাইল হোসেন বাচ্চুর ভাগ্নের একটি হাঙ্ক এফটিআর মডেলের ১২৫ সিসি পুরাতন মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর এ বিষয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেই মোটরসাইকেলটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
চুরির ঘটনার প্রায় এক বছর পর আজ ২রা ফেরুয়ারি ওই চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী কর্নকর্ড ফ্যামাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কর্মকর্তা ও গাড়িক্ষেত্র গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে মাহফুজুর রহমান সবুজ কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।
এ সময় ইউপি সদস্য বাচ্চু সন্দেহবশত ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী সবুজকে থামিয়ে চেসিস পরীক্ষা করে জানতে পারেন এটিই তার ভাগ্নের চুরিকৃত পুরাতন মোটরসাইকেল।
এরপরে তিনিসহ এলাকার স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় মোটরসাইকেলসহ সবুজকে আটকে ফেলেন। যদিও সবুজ চুরির ঘটনার সাথে জড়িত না বলে বারবার চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন। তিনি মোটরসাইকেলটি কিনে চাকুরির কাজে ব্যবহার করছেন মাত্র। কিন্তু কে শোনে কার কথা। মোটরসাইকেল যেহেতু তার কাছে পাওয়া গেছে, তাই চুরির সাথে তাকেও জড়িয়ে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোটর সাইকেল ক্রেতা সবুজের পরিবার অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানায়, সবুজ কর্নকর্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরি করেন। তবে পরিবার গরিব হওয়ায় চাকরির কাজের জন্য কম দামের মধ্যে পুরাতন একটি মোটরসাইকেল খোঁজ করতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আটক সুব্রত কুমার দেবনাথ এর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে নগদ ২০ হাজার টাকায় সেই চোরাই মোটরসাইকেলটি কিনে নেন। এর মধ্যে চঞ্চল নিয়েছে ১১ হাজার টাকা। বাকি টাকা সুব্রত ও ও মুহুর্তে নাম না জানা আবদুস ছালামের ছেলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে।
পরে বাঁকি ৩০ হাজার টাকা দিলে কাগজপত্র দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে মোটরসাইকেল কিনে ব্যবহারকারী অসহায় একজন ঔষধ কোম্পানির কর্মকর্তা সবুজকে চুরির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে।
সচেতন এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, মোটরসাইকেল চুরির প্রধান হোতা চঞ্চল নামের চোরকে গ্রেপ্তার না করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম স্যারের দিক নির্দেশনায় মোটরসাইকেল চোর সিণ্ডিকেটের সক্রিয় চোরসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলা নং ৩(২)২০২৬ ধারা ৩৭৯।
তিনি আরো বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল সহ মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুইজন সক্রিয় চোর সুব্রত কুমার দেবনাথ ও সবুজকে আটক করে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
যাচাই বাছাই শেষে মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক কে আদালতের নির্দেশে ফিরিয়ে দেয়া হবে।