
শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারের ফটোষ্ট্যাট ব্যবসায়ী এখন নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেস এর মালিক। অনুমোদনহিন নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেস এর অন্তরালে স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে রমরমা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ভ্যান চালক পুত্র বজলুর রহমান। তিনি এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। শার্শার ইসলামপুর গ্রামে গড়ে তুলেছে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান বাড়ী। এদিকে বিগত সরকার আমলে বজলুর রহমান ছিল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেনের আস্থাভাজন ব্যক্তি। তাকে নিয়ে ইউরোপসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমনে গেছেন বজলুর রহমান। তার সহযোগিতায় অনুমোদনহিন আদম ব্যবসার অন্তরালে নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেস এর নামে গড়ে তোলে আদম ব্যবসার সেন্ডিকেট। আকর্ষনীয় চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মালায়শিয়া, সার্বিয়া, সাইপ্রাস, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে মাথাপিছু অগ্রিম জামানত হিসাবে নিচ্ছে ৩ লক্ষ টাকা। যা সরকারী ভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিয়ম বটে। ভুক্ত ভোগিরা জানিয়েছে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক পাসপোর্টের বিপরীতে পাসপোর্ট প্রতি ৩ লক্ষ টাকা হারে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেসের মালিক বজলুর রহমান। আদম পাচারকারী বজলুর রহমান সম্প্রতি গত জুন মাসে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে সাপ্লাই কোম্পানিতে সার্ভিয়া পাঠিয়েছে। কিন্তু কেউই কাজ না পেয়ে সার্ভিয়ায় পথে পথে ঘুরছে। অনুমোদনহিন নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেসের মালিক চুক্তি অনুযায়ী ভিসা করতে ব্যর্থ হওয়ায় শতাধিক মানুষের চাপের মুখে ২ বছর নেপালে আত্মগোপ করে থাকায় পর স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। একই নিয়মে আবারও শুরু করে আদম ব্যবসা। প্রতারনার মাধ্যমে চলছে তার কার্যক্রম। সাধারণ ভুক্ত ভোগিরা কিছুই জানে না অথচ সরল বিশ্বাসে তারা চাকুরী পাওয়ার আসায় টাকা জমা দিচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে গ্রাম্য সহজ সরল ব্যক্তিদের নিকট থেকে সংগৃহিত পাসপোর্ট গুলি নাভারণ ভিসা প্রসেসিং অফিসেই জমা রাখা হত। বর্তমানে সর্তকতা অবলম্বন করে ম্যানেজার কবির ও অফিস ষ্ট্যাফদের বাড়ী বাড়ী নিয়ে গোপন স্থানে জমা রাখে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বজলুর রহমান গত ঈদুল আযহার আগের দিন বিশাল আকৃতির ১টি গরু জবাই করে স্থানীয় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করে প্রভাবশালী জনৈক নেতার মাধ্যমে। এ ব্যাপারে নাভারণ ভিসা এক্সপ্রেস এর ম্যানেজার কবির হোসেন এক স্বাাৎকারে জানান প্রথমে পাসপোর্ট প্রতি ১ লক্ষ টাকা জমা নেয়া হয় । সার্বিয়ায় যেতে এখন ১৪ লক্ষ টাকা রেট নির্ধারিত আছে। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে একটি অভিযোগ এসেছে অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম জানান, সারা দেশে ২ হাজার ৮শত বৈধ ভিসা এজেন্সির লাইন্সেস আছে। যারা বিদেশে যেতে চায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া উচিত। তবে অবৈধ আদম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.