প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৭, ২০২৬, ২:২৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৩:২৯ পি.এম
সর্ব তরকারির কাঁঠালি কলা এনসিপির সারজিস কাদির বাবু!

ইসাহাক আলী, নাটোর এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ সিংড়া আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী এনসিপির প্রফেসর জার্জিস কাদির বাবু যেন সর্ব তরকারির কাঁঠালি কলা। ছাত্র জীবন থেকে কর্ম জীবন এবং অবসর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে তার নানা মিল অমিল। বিএনপি, আওয়ামী লীগ এমনকি জাতীয় পার্টির সাথেও সম্পৃক্ততা ছিল তার। কোন জায়গাতেই সুবিধা না করতে পেরে অবশেষে এনসিপি নেতা বনে গিয়েছেন সাবেক এই শিক্ষক। বিভিন্নভাবে কথা বলে এর প্রমাণও মিলেছে।
জানাযায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার মৌগ্রামে ১৯৬১ সালের ১৯ জানুয়ারীতে জন্ম জার্জিস কাদির বাবুর। ছোট বেলা থেকে উশৃংখল প্রকৃতির। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ বিবেচনায় বামিহাল বিএল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জাসদ এর রাজনীতি শুরু করেন। তারপর ছাত্র জীবন শেষ করে সিংড়ার ইয়াকুব আলী এমপির হাত ধরে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পাটির রাজনীতি শুরু করেন। জাতীয় পাটির নেতাদের কাছে ধর্ণা ধরে রানী ভবানী কলেজে ১৯৮৯ সালে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। এরশাদ সরকারের আমলে অত্র কলেজ সরকারী হওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বিএনপি নেতা তৎকালীন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং রাজশাহী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তারপর রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতা ও রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে আসেন এবং নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এ সময় তিনি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকেরও আস্থাভাজন হন। তার সাথে ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বৈরাচারী হাসিনার ভোটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর সিংড়ার রাজনীতি শুরু করার জন্য আবার নাটোর -৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নেয়ার জন্য জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক দাউদার মাহমুদ এর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ভালোভাবে না নেওয়ায় বিএনপি থেকে এনসিপিতে যোগদান করেন। তার পর এনসিপি থেকে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করেন। এনসিপির ২/১ জন কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। স্থানীয় জনসাধারণের মতে জার্জিস কাদির বাবু একজন ক্ষমতালোভী, অর্থ লোভী এবং উচ্চাভিলাসী মানুষ। স্থানীয় জনগনের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। তাছাড়া সিংড়া উপজেলায় এনসিপির কোনো কার্যক্রম নাই। সংগঠনও নাই। সবেমাত্র আহবায়ক কমিটি হলেও তা নামকা ওয়াস্তে কিংবা পকেট কমিটি। বেশিরভাগ সদস্য নিস্ক্রিয়। ব্যক্তি জীবনে এলাকায় বাবুর দান, সদকা, সেবা মুলক কার্যক্রমও নাই। হঠাৎ করেই এনসিপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম উঠে আসায় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যক্তিগত জীবনে জার্জিস কাদির বাবু ১ ছেলে এবং ১ মেয়ের জনক। তার পরিবারে ইসলামের আদর্শ অনুপস্থিত। নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না এবং ক্লিন সেভের এমন ব্যক্তি মনোনয়ন ইসলামী রাজনীতিতে প্রভাবিত জোট থেকে দিলে নিশ্চিত জয়ের আসনে জামানত হারাবে জার্জিস কাদির বাবু। তাকে জোট থেকে দিলে এখানে ইসলামপন্থিদের বিরাট ভোট ব্যাংক হারানোর সম্ভাবনা আছে। সেই সাথে তার পরাজয় নিশ্চিত। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন মনোনয়ন পাবার পর কেন্দ্র থেকে অর্থ পেলে সেই অর্থে ২০% খরচ করে বাকি টাকা অর্থ লোপাট করাই তার উদ্দেশ্য।
এমন হীন লোককে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি সিংড়ার সচেতন মানুষের।
এদিকে জোটের প্রার্থী হিসাবে তার নাম উঠে আসায় পার্থি পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
গতকাল সিংড়া বাসস্ট্যান্ড মানববন্ধনে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া জুলাই যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী শহীদ পরিবার থেকেও এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থী পুনঃ বিবেচনার দাবি সরব হয়ে উঠছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.