
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ফুলবাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ, দায়ের করা মামলা এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ।
আমার বসতভিটার জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ, জমি দখলের চেষ্টা এবং সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের করা বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ ও প্রকৃত ঘটনা বিষয়ে মোছাঃ জেব-উন নেহার গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিবি ক্যাম্প ছোয়ানি বাজার তার নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১৭৪, দাগ নং ১১৪৫ এর মোট ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে অবশিষ্ট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ শতক। এসএ রেকর্ডের মালিক ছিলেন- সামসুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী, সামছুল আলম চৌধুরী ও সামছুল হুদা চৌধুরী। সামছুল হুদা চৌধুরীর ওয়ারিশ ছায়েম উদ্দিন গং এর কাছ থেকে ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৭৪ নং দলিলের মাধ্যমে মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, মমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী জমি ক্রয় করেন হিসেবে দলিল উপস্থাপন করা হয়। উক্ত অগ্রক্রয় দলিলের বিরুদ্ধে সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যা ২০৭/৮৩ ও ২১০/৮৩ নং মিস মামলা দায়ের করেন এবং মামলায় তাদের পক্ষে রায় প্রদান করা হয়। একইভাবে ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৮০ নং দলিলের মাধ্যমে আনোয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগম ১৬ শতক জমি ক্রয় করলে ওই অগ্রক্রয় দলিলের বিরুদ্ধেও সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যা ২০৮/৮৩ নং মিস মামলা দায়ের করেন এবং মামলায় তারা জয় লাভ করেন।
সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যার নিকট থেকে ১২/০৪/১৯৮৮ তারিখের ২৪৫৭ নং কবলা দলিলের মাধ্যমে আমার শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। অন্যদিকে, পরবর্তীতে একই দাগে একই দাতাদের নিকট থেকে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী ২৪/০২/১৯৯১ তারিখে ১৫০০ নং দলিলে ৫ শতক, ১৫০১ নং দলিলে ৬ শতক এবং ১৫০২ নং দলিলে ৫ শতক অর্থাৎ মোট ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আমার শ্বশুরের ক্রয়ের তারিখ ১৯৮৮ সাল, আর বিবাদীপক্ষের উক্ত ক্রয় ১৯৯১ সালে। অর্থাৎ আমার শ্বশুর পূর্বেই দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছিলেন। আইন অনুযায়ী যার দলিল পূর্বে হবে সে আগে জমি পাবে। পরবর্তীতে যার দলিল হবে সে অবশিষ্ট জমি যা থাকবে তাই পাবে।
পরবর্তীতে মমিনুল চৌধুরী গং ওঢ-/১২১/২০১০-২০১১, ওঢ-/১২২/২০১০-২০১১ ও ওঢ-/১২৩/২০১০-২০১১ নং খারিজ মোকদ্দমার মাধ্যমে ১৬ শতক জমি খারিজের আবেদন করেন। কিন্তু ফুলবাড়ী উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করেন এবং স্কেচ ম্যাপসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। তদন্তে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষের দাবিকৃত এলাকার মধ্যে তাদের প্রকৃত দখল ছিল প্রায় ৮.৭৫৩ শতক। ফলে তাদের খারিজের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। অপরদিকে আমার শ্বশুরের নামে ১৬ শতক জমি খারিজ প্রদান করা হয়। কিন্তু বিবাদীপক্ষ ১০/০৫/২০১০ তারিখের ঢওওও/৩৪/০৯-১০ নং মিস মামলার মাধ্যমে আমার শ্বশুরের নামে খারিজ বাতিলের আবেদন করে। উক্ত আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়। এরপর তারা একই আদালতে রিভিউ আবেদন করেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আমার শশুরের খারিজটি ১৪/০৭/২০১০ তারিখে বাতিল করে নেন। আমার শ্বশুর উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দিনাজপুরের নিকট ৫৩/১৫/১০ নং আপিল মামলা করেন। পরবর্তীতে এডিসি (রাজস্ব) কাগজপত্র পর্যালোচনা করতঃ ২৩/০৩/২০১৫ তারিখে বাটোয়ারা দলিল না হওয়া পর্যন্ত ১৪/০৭/২০১০ তারিখের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন।
চলমান জরিপে আমার শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমি মাঠ পর্চায় রেকর্ড করা হয়। যার ডিপি খতিয়ান নং ৫০৯ এবং হাল দাগ নং ৮০৯। আমরা দির্ঘদীন থেকে এই জায়গায় মার্কেট ও ৫তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ১ তলা বিল্ডিং করে বসবাস করতেছি এবং আমার স্বামীর বড় ভাইয়েরা মার্কেট ও নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো-দলিলের মাধ্যমে দুই পক্ষই ১৬ শতক করে মোট ৩২ শতক জমি ক্রয় করলেও ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ কর্তৃক ৬ শতক জমি অধিগ্রহণের কারণে বাস্তবে অবশিষ্ট জমি ছিল মাত্র ২৬ শতক। তিন বছর আগে আমার শশুর জমি ক্রয় করেন। এই বাস্তবতার ভিত্তিতেই রেকর্ড ও জরিপে আমার শ্বশুরের নামে ১৬ শতক এবং বিবাদীপক্ষের নামে অবশিষ্ট ১০ শতক জমি রেকর্ড করা হয়।
বিবাদীপক্ষের মো. মাজেদ চৌধুরী ০৬/০৯/২০০৯ তারিখের সিপি ২৮৮৫-এর মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০ ধারায় আপত্তি দাখিল করেন। তিনি ২৬ শতকের মধ্যে ১৩ শতক জমি নিজের নামে রেকর্ডের দাবি করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দলিল, নামজারি, খারিজ খতিয়ান, রেকর্ড এবং সরেজমিন তদন্ত পর্যালোচনার পর সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে-মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড সঠিক। ফলে বিবাদীপক্ষের ৩০ ধারার আপত্তি নামঞ্জুর করে শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রাখা হয়।
এরপর বিবাদীপক্ষের মো. মাজেদ চৌধুরী ৩০ ধারার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩১ ধারায় সিপি ১৪৪৫৬ আপিল মোকদ্দমা দাখিল করেন। যার আপিল নং ৬৩৭/১০। পরবর্তীতে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ন্যায়বিচার নিয়ে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় কোর্ট পরিবর্তনের আবেদন করা হলে মামলাটি শুনানির জন্য বিরল সেটেলমেন্ট অফিসে প্রেরণ করা হয়। সেখানে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দলিল, রেকর্ড, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপিলকারীর দাবি নামঞ্জুর এবং ৩০ ধারার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও জরিপ প্রক্রিয়ার একাধিক পর্যায়ে মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রাখা হয়েছে।
বিবাদীরা আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সকল মামলায় তারা হেরে যান। যেমন- ৩৬/১০, ১২/১০, ২৪৯পি/২০১০, ৩৯০পি/২০১৫। তারা রংপুর ও দিনাজপুর র্যাব অফিসেও অভিযোগ করেন। র্যাব অফিস থেকে আমাদের কাগজপত্র দেখার পর বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে বাড়ীতে যান। এর পরে যদি কেউ মামলা করে তাহলে বলবেন এই জমির রায় পূর্বে হয়েছে তাহলে আপনাদেরকে আর হয়রানি করতে পারবেনা।
সম্প্রতি ইমরান চৌধুরী নিশাদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আমরা ১৬৪৫ দাগে জমি ক্রয় করেছি। যা একেবারি মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই-উক্ত দাবি সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও মামলার নথি দেখলেই প্রমাণ হবে। ৩১ ধারার আপিলের নথিতে বিরল উপজেলার আপিল নিষ্পত্তিকারী সেটেলমেন্ট অফিসার উল্লেখ করেছেন, ২০৮/৮৩ নং অগ্রক্রয় মামলার নথিতে দাগ নম্বর নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। আপিলের প্রতিবাদী পক্ষের বক্তব্য ছিল, ২০৮/৮৩ নং মামলায় টাইপিং ভুলের কারণে ১৬৪৫ দাগ নম্বর ছাপা হয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট নালিশী মৌজায় ১৬৪৫ নং দাগের অস্তিত্ব নেই বলে তারা দাবি করেন। তাছাড়া ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৮০ নং অগ্রক্রয় মামলার রায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দাগের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সংশ্লিষ্ট দলিলের বিরুদ্ধেই রায় হয়েছিল।
সম্প্রতি ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, দেশ টিভির সাংবাদিক হারুন উর রশীদ ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত ঘটনা হলো, গত ৮ তারিখে এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক হারুন উর রশীদ অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত-উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করার পর সংবাদটি প্রকাশ করেন। সুতরাং এটিকে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা প্রতিহিংসার ফল হিসেবে প্রচার করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিশাদ আরো দাবী করেন, ২০ হাজার টাকা নিয়ে সাংবাদিক হারুন উর রশীদ সংবাদটি প্রকাশ করেছেন। তিনি কি ২০ হাজার টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন। আসলে তিনি নিজের কর্মকা- আড়াল করতে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পূর্বে ইমরান নিশাদ এর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জমি দখলের জন্য নতুন করে তৎপর হয়ে ওঠেন। আমার দখলে থাকা জায়গায় জোর পূর্বক টিনের ছাউনি নির্মাণ করা হয়। বাধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। নিশাদ বলেন যে, বিল্ডিং ভেঙ্গে হলেও আমি জমি দখল করবো। এছাড়া ইমরান নিশাদ গং আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে আমি মনে করি। আমি তাদের সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র সম্মানিত সমন্বয়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের সংকটময় সমযে সাধারণ
মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এনসিপি মানুষের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার অভিযোগ দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি বিভিন্ন দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন তাহলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলনে, আমার অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ॥
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দেশের উত্তর অঞ্চলের একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রর ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার সকাল থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াড বিদ্যুৎ এক নম্বর ইউনিট টি বন্ধ হয়ে যায়।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
অপর দিগে ২নং ইউনিট টি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। মেরামত করতে গেলে প্রায় ৫শত কোটি টাকা খরচ হতে পারে। যা দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মান করা সম্ভব। ৩য় ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫০/৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক মোবাইল ফোনে জানান গত ১৫ দিন আগে এক নং ইউনিটের দুইটি পাম্প বিকল হয়ে যায়, স্পেয়ার পাম্প দ্বারা ইউনিটটি সচল করা হয় গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই এই পাম্প দুইটি বিকল হয়ে পড়ে, স্পেয়ার পাম্প দুইটি বিকল হওয়ায় ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান বিকল হওয়া পাম্প গুলি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, দুই একদিনের মধ্যেই পাম্প মেরামত সম্পূর্ণ করে ইউনিটি পুনরায় সচল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
ফুলবাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ, দায়ের করা মামলা এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ॥
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি
ফুলবাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ, দায়ের করা মামলা এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ।
আমার বসতভিটার জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ, জমি দখলের চেষ্টা এবং সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের করা বিভিন্ন অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ ও প্রকৃত ঘটনা বিষয়ে মোছাঃ জেব-উন নেহার গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিবি ক্যাম্প ছোয়ানি বাজার তার নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১৭৪, দাগ নং ১১৪৫ এর মোট ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে অবশিষ্ট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ শতক। এসএ রেকর্ডের মালিক ছিলেন- সামসুদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী, সামছুল আলম চৌধুরী ও সামছুল হুদা চৌধুরী। সামছুল হুদা চৌধুরীর ওয়ারিশ ছায়েম উদ্দিন গং এর কাছ থেকে ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৭৪ নং দলিলের মাধ্যমে মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, মমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী জমি ক্রয় করেন হিসেবে দলিল উপস্থাপন করা হয়। উক্ত অগ্রক্রয় দলিলের বিরুদ্ধে সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যা ২০৭/৮৩ ও ২১০/৮৩ নং মিস মামলা দায়ের করেন এবং মামলায় তাদের পক্ষে রায় প্রদান করা হয়। একইভাবে ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৮০ নং দলিলের মাধ্যমে আনোয়ারা বেগম ও ফাতেমা বেগম ১৬ শতক জমি ক্রয় করলে ওই অগ্রক্রয় দলিলের বিরুদ্ধেও সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যা ২০৮/৮৩ নং মিস মামলা দায়ের করেন এবং মামলায় তারা জয় লাভ করেন।
সামছুল হুদা চৌধুরীর তিন কন্যার নিকট থেকে ১২/০৪/১৯৮৮ তারিখের ২৪৫৭ নং কবলা দলিলের মাধ্যমে আমার শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। অন্যদিকে, পরবর্তীতে একই দাগে একই দাতাদের নিকট থেকে মমিনুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাহারুল ইসলাম চৌধুরী ও মাজেদ চৌধুরী ২৪/০২/১৯৯১ তারিখে ১৫০০ নং দলিলে ৫ শতক, ১৫০১ নং দলিলে ৬ শতক এবং ১৫০২ নং দলিলে ৫ শতক অর্থাৎ মোট ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আমার শ্বশুরের ক্রয়ের তারিখ ১৯৮৮ সাল, আর বিবাদীপক্ষের উক্ত ক্রয় ১৯৯১ সালে। অর্থাৎ আমার শ্বশুর পূর্বেই দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেছিলেন। আইন অনুযায়ী যার দলিল পূর্বে হবে সে আগে জমি পাবে। পরবর্তীতে যার দলিল হবে সে অবশিষ্ট জমি যা থাকবে তাই পাবে।
পরবর্তীতে মমিনুল চৌধুরী গং ওঢ-/১২১/২০১০-২০১১, ওঢ-/১২২/২০১০-২০১১ ও ওঢ-/১২৩/২০১০-২০১১ নং খারিজ মোকদ্দমার মাধ্যমে ১৬ শতক জমি খারিজের আবেদন করেন। কিন্তু ফুলবাড়ী উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করেন এবং স্কেচ ম্যাপসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। তদন্তে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষের দাবিকৃত এলাকার মধ্যে তাদের প্রকৃত দখল ছিল প্রায় ৮.৭৫৩ শতক। ফলে তাদের খারিজের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। অপরদিকে আমার শ্বশুরের নামে ১৬ শতক জমি খারিজ প্রদান করা হয়। কিন্তু বিবাদীপক্ষ ১০/০৫/২০১০ তারিখের ঢওওও/৩৪/০৯-১০ নং মিস মামলার মাধ্যমে আমার শ্বশুরের নামে খারিজ বাতিলের আবেদন করে। উক্ত আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়। এরপর তারা একই আদালতে রিভিউ আবেদন করেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আমার শশুরের খারিজটি ১৪/০৭/২০১০ তারিখে বাতিল করে নেন। আমার শ্বশুর উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দিনাজপুরের নিকট ৫৩/১৫/১০ নং আপিল মামলা করেন। পরবর্তীতে এডিসি (রাজস্ব) কাগজপত্র পর্যালোচনা করতঃ ২৩/০৩/২০১৫ তারিখে বাটোয়ারা দলিল না হওয়া পর্যন্ত ১৪/০৭/২০১০ তারিখের নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন।
চলমান জরিপে আমার শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমি মাঠ পর্চায় রেকর্ড করা হয়। যার ডিপি খতিয়ান নং ৫০৯ এবং হাল দাগ নং ৮০৯। আমরা দির্ঘদীন থেকে এই জায়গায় মার্কেট ও ৫তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ১ তলা বিল্ডিং করে বসবাস করতেছি এবং আমার স্বামীর বড় ভাইয়েরা মার্কেট ও নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো-দলিলের মাধ্যমে দুই পক্ষই ১৬ শতক করে মোট ৩২ শতক জমি ক্রয় করলেও ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ কর্তৃক ৬ শতক জমি অধিগ্রহণের কারণে বাস্তবে অবশিষ্ট জমি ছিল মাত্র ২৬ শতক। তিন বছর আগে আমার শশুর জমি ক্রয় করেন। এই বাস্তবতার ভিত্তিতেই রেকর্ড ও জরিপে আমার শ্বশুরের নামে ১৬ শতক এবং বিবাদীপক্ষের নামে অবশিষ্ট ১০ শতক জমি রেকর্ড করা হয়।
বিবাদীপক্ষের মো. মাজেদ চৌধুরী ০৬/০৯/২০০৯ তারিখের সিপি ২৮৮৫-এর মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০ ধারায় আপত্তি দাখিল করেন। তিনি ২৬ শতকের মধ্যে ১৩ শতক জমি নিজের নামে রেকর্ডের দাবি করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দলিল, নামজারি, খারিজ খতিয়ান, রেকর্ড এবং সরেজমিন তদন্ত পর্যালোচনার পর সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে-মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড সঠিক। ফলে বিবাদীপক্ষের ৩০ ধারার আপত্তি নামঞ্জুর করে শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রাখা হয়।
এরপর বিবাদীপক্ষের মো. মাজেদ চৌধুরী ৩০ ধারার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩১ ধারায় সিপি ১৪৪৫৬ আপিল মোকদ্দমা দাখিল করেন। যার আপিল নং ৬৩৭/১০। পরবর্তীতে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ন্যায়বিচার নিয়ে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় কোর্ট পরিবর্তনের আবেদন করা হলে মামলাটি শুনানির জন্য বিরল সেটেলমেন্ট অফিসে প্রেরণ করা হয়। সেখানে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দলিল, রেকর্ড, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপিলকারীর দাবি নামঞ্জুর এবং ৩০ ধারার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও জরিপ প্রক্রিয়ার একাধিক পর্যায়ে মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রাখা হয়েছে।
বিবাদীরা আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সকল মামলায় তারা হেরে যান। যেমন- ৩৬/১০, ১২/১০, ২৪৯পি/২০১০, ৩৯০পি/২০১৫। তারা রংপুর ও দিনাজপুর র্যাব অফিসেও অভিযোগ করেন। র্যাব অফিস থেকে আমাদের কাগজপত্র দেখার পর বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে বাড়ীতে যান। এর পরে যদি কেউ মামলা করে তাহলে বলবেন এই জমির রায় পূর্বে হয়েছে তাহলে আপনাদেরকে আর হয়রানি করতে পারবেনা।
সম্প্রতি ইমরান চৌধুরী নিশাদ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আমরা ১৬৪৫ দাগে জমি ক্রয় করেছি। যা একেবারি মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই-উক্ত দাবি সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও মামলার নথি দেখলেই প্রমাণ হবে। ৩১ ধারার আপিলের নথিতে বিরল উপজেলার আপিল নিষ্পত্তিকারী সেটেলমেন্ট অফিসার উল্লেখ করেছেন, ২০৮/৮৩ নং অগ্রক্রয় মামলার নথিতে দাগ নম্বর নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। আপিলের প্রতিবাদী পক্ষের বক্তব্য ছিল, ২০৮/৮৩ নং মামলায় টাইপিং ভুলের কারণে ১৬৪৫ দাগ নম্বর ছাপা হয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট নালিশী মৌজায় ১৬৪৫ নং দাগের অস্তিত্ব নেই বলে তারা দাবি করেন। তাছাড়া ০৯/০৮/১৯৮২ তারিখের ৯৩৮০ নং অগ্রক্রয় মামলার রায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দাগের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সংশ্লিষ্ট দলিলের বিরুদ্ধেই রায় হয়েছিল।
সম্প্রতি ইমরান চৌধুরী নিশাদ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, দেশ টিভির সাংবাদিক হারুন উর রশীদ ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত ঘটনা হলো, গত ৮ তারিখে এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক হারুন উর রশীদ অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত-উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করার পর সংবাদটি প্রকাশ করেন। সুতরাং এটিকে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা প্রতিহিংসার ফল হিসেবে প্রচার করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিশাদ আরো দাবী করেন, ২০ হাজার টাকা নিয়ে সাংবাদিক হারুন উর রশীদ সংবাদটি প্রকাশ করেছেন। তিনি কি ২০ হাজার টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন। আসলে তিনি নিজের কর্মকা- আড়াল করতে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পূর্বে ইমরান নিশাদ এর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জমি দখলের জন্য নতুন করে তৎপর হয়ে ওঠেন। আমার দখলে থাকা জায়গায় জোর পূর্বক টিনের ছাউনি নির্মাণ করা হয়। বাধা দিতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। নিশাদ বলেন যে, বিল্ডিং ভেঙ্গে হলেও আমি জমি দখল করবো। এছাড়া ইমরান নিশাদ গং আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে আমি মনে করি। আমি তাদের সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)'র সম্মানিত সমন্বয়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের সংকটময় সমযে সাধারণ
মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এনসিপি মানুষের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার অভিযোগ দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি বিভিন্ন দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন তাহলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলনে, আমার অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ॥
মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দেশের উত্তর অঞ্চলের একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রর ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার সকাল থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াড বিদ্যুৎ এক নম্বর ইউনিট টি বন্ধ হয়ে যায়।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
অপর দিগে ২নং ইউনিট টি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। মেরামত করতে গেলে প্রায় ৫শত কোটি টাকা খরচ হতে পারে। যা দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মান করা সম্ভব। ৩য় ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫০/৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক মোবাইল ফোনে জানান গত ১৫ দিন আগে এক নং ইউনিটের দুইটি পাম্প বিকল হয়ে যায়, স্পেয়ার পাম্প দ্বারা ইউনিটটি সচল করা হয় গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই এই পাম্প দুইটি বিকল হয়ে পড়ে, স্পেয়ার পাম্প দুইটি বিকল হওয়ায় ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান বিকল হওয়া পাম্প গুলি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, দুই একদিনের মধ্যেই পাম্প মেরামত সম্পূর্ণ করে ইউনিটি পুনরায় সচল করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.