সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চালকলের লাইসেন্স ও সরকারি চাল বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ করায় ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি, প্রাণনাশ ও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী ব্যবসায়ী এসএম সোহাগ সরকার।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বানিয়াপট্টিস্থ নিমন্ত্রণ হোটেলের নিচতলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী ব্যবসায়ী এসএম সোহাগ সরকার এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, রায়গঞ্জ উপজেলায় নিবন্ধিত চালকল রয়েছে ১৪২টি। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক চাল কল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পরও একই মিল বা চাতাল দেখিয়ে একাধিক লাইসেন্সের মাধ্যমে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে চাল সরবরাহের বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও চালকল মালিকের যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি এসব অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে এসব অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে চালকল মালিকদের একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো, প্রাণনাশ এবং চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে এজন্য তিনি রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সোহাগ সরকার বলেন, জিডি করার পর ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে ৩০ থেকে ৪০ জন চালকল মালিক তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসেন। তারা তাকে হুমকি দিয়ে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
চালকলের লাইসেন্স ও সরকারি বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ১৪২টি মিলের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও বরাদ্দ বাতিল করা হলো, সেগুলো কীভাবে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে বরাদ্দ পেল।
এসব মিলের লাইসেন্স দেওয়ার সময় মিলের অস্তিত্ব, অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা ও কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই করা হলে পরে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও বরাদ্দ বাতিলের প্রয়োজন হলো কেন এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন
লাইসেন্স ও বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানান। সোহাগ সরকার বলেন, অভিযোগের পর গত ১১ আগষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামকে আহবায়ক করে
উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটি ১৪২টি চালকলের লাইসেন্স, মিলের অস্তিত্ব, কার্যক্রম ও সরকারি বরাদ্দসংক্রান্ত বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু এরমধ্যেই অভিযোগ উঠা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চালমিলগুলো পুনরায় চাতাল এবং বয়লার পরিস্কার করে ধান ভিজানো শুরু করেছে এতে তিনি আশংকা করছেন তদন্তের সময় এসব বন্ধ মিলগুলো সচল দেখানো হতে পারে।
সোহাগ সরকার আরও দাবি করেন চালকলের লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে সরকারি বরাদ্দ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত অনিয়ম ও দায়ীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও সরকারী খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।