সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে প্রেমিকার বিয়ের খবরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক যুবকের আত্মা হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার দুটি পোস্ট এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার জটিবাড়ি গ্রামের একটি আমবাগান থেকে রাকিব প্রামাণিক (২২) নামের ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সোহরাব প্রামাণিকের ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে রাকিব লিখেন, প্রিয় আমার গ্রামবাসী আমার বন্ধুবান্ধব, সবাই না জানলেও কিছু অংশ ফ্রেন্ডস সার্কেল তো জানো। যে আমি মাবিয়া কে ভালোবাসি মাবিয়া আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। মাবিয়াকে তার ফ্যামিলি, জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তাকে বিয়ে দিচ্ছে তার বাবা মা। তাদেরকে আমি অনেকভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা কেউ বোঝেনি। তারা আমাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে মাবিয়াকে বিয়ে দিচ্ছে। আমি যদি ওকে না পাই, তাহলে আমি আমার এই জীবন রাখব না। আমার মৃত্যুর কারণ তার বাবা মা, ওর দাদার নাম আব্দুল মালেক সরকার, ওর বাবার নাম আব্দুল মান্নান সরকার বাড়ি রায়দৌলতপুর।
কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চান। সেখানে তিনি লিখেন, প্রিয় বাবা মা আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও। তোমাদের সব কিছু না জানিয়ে আমি ডিসিশন নিয়ে ফেলেছি। আমি আর থাকতে পারতেছি না বাবা, তোমার এই অপদার্থ ছেলেকে পারলে ক্ষমা করে দিও। সবাই আমাকে মাফ করে দিয়েন। যদি আমার কথায় আপনাদের কোন খারাপ লেগে থাকে। নির্বিধায় আমাকে ক্ষমা করে দিন। বিদায় পৃথিবী। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করো।
জটিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, রাকিব ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাবিয়া নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তিনি বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ের খবর পেয়ে বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাকিব।
এঘটনায় রায়দৌলতপুরের বাসিন্দা ও সেই তরুণীর বাবা আব্দুল মান্নান সরকারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে রাকিবের দেওয়া ফেসবুক পোস্টে যুক্ত করা মাবিয়ার খালার নাম্বারে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল কিনা আমি জানিনা৷ রাকিব এর বিষয়টিও আজকে শুনলাম৷ এখানে তো আমি থাকিনা, কাল এসে শুধু শুনি মাবিয়ার আজকে বিয়ে৷ সে আমার নাম্বার কিভাবে পেয়েছে, সেটাও আমি জানিনা।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।