প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২২, ২০২৬, ৪:১৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:০৮ পি.এম
নদী রক্ষা নাকি বালু বাণিজ্য? প্রতিবাদ করায় উল্টো হয়রানির অভিযোগ

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের আড়িয়াগোয়ালবাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আড়ালে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন ও তা বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক যুবক এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এখন তাকেই মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীশাসন প্রকল্পের আওতায় জিওব্যাগ (জিও পাইপ) স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পদ্মা নদীর নির্ধারিত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি থাকলেও, সেই সুযোগে অতিরিক্ত বালু কেটে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে নদীশাসন প্রকল্পের কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন যুবক ও টাটিপাড়া-গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা অপু বিশ্বাস বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পাবনা সদর থানার নির্দেশনায় গত ৩০ জুন রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বালুভর্তি দুটি হ্যারো ট্রাক, বালু উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার টিপু সুলতান এবং তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের পর রহস্যজনকভাবে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, আটক ব্যক্তিদের মুক্তির পেছনে দুবলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কিছু সদস্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এদিকে অপু বিশ্বাসের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির প্রতিবাদ করায় টিপু সুলতান তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানির উদ্দেশ্যে পাবনা সদর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অপু বিশ্বাস বলেন, "আমি শুধু পরিবেশ ও নদী রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। এখন আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিপু সুলতান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটানো, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সুশাসন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নদী রক্ষা প্রকল্পের আড়ালে যদি অবৈধ বালু বাণিজ্য চলে, তাহলে তা শুধু সরকারি সম্পদের অপচয় নয়, বরং ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুরো ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : একরামুল হক বেলাল
ঢাকা অফিস-২২,মা ভিলা ,পূর্ব তেজতুরী বাজার,ফার্মগেট-১২১৫,
ইমেইল-spnews17@gmail.com
রেলওয়ে পার্ক,পার্বতীপুর,দিনাজপুর। ০১৭১২৩৭০৮০০
© 2026 Songbad Protikkhon-Spnewsbd. All rights reserved.