প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ৩:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:৫২ এ.এম

মোঃ রিয়াজ জেলা প্রতিনিধি।। ‘বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারলেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব।’—এমন মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার আয়োজনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শিক্ষিত, নৈতিক ও দক্ষ মানবসম্পদ।
তিনি বলেন, “আজ যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তারা শুধু নিজেদের পরিবারের নয়, পুরো বাউফলের গর্ব। তাদের এই সাফল্য ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের পথ তৈরি করবে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানে দক্ষ হওয়ার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে, যাতে তারা আদর্শ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
‘অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আরিফুর রহমান।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, “ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি কে. এম. তামিম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম সোহেল, সাবেক জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর এবং বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি লিমন হোসেন।”
‘অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, সুধীজন ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ সান বলেন, “বৃত্তি অর্জন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আজকের এই সংবর্ধনা আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে ভালোভাবে লেখাপড়া করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
রেজওয়ানা বিনতে রফিক বলেন, “আমাদের সাফল্যকে এভাবে মূল্যায়ন করায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”
বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোহরা বলেন, “বৃত্তি পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও কঠোর পরিশ্রম করে আরও ভালো ফল করতে চাই এবং বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
নুরাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুহা ইসলাম বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সহযোগিতায় আমি এই সাফল্য পেয়েছি। সামনে আরও ভালো ফল করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে চাই।”
আলী আকবর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লগ্ন দাস বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। আমাদের অর্জনের স্বীকৃতি পাওয়ায় আরও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে বিদ্যালয়, পরিবার এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে চাই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পায়, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
উল্লেখ্য, “বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ, কলম, বিভিন্ন দোয়া সম্বলিত স্টিকার, মোটিভেশনাল ও ইসলামিক বইসহ শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।”