
সৈয়দপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে লিটন বাহিনী কর্তৃক অন্যের জমি জবর দখল

দুলাল সরকার (সৈয়দপুর-নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলার, সৈয়দপুর উপজেলার, চৌমুনী বাজার সংলগ্ন সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়ক ও সৈয়দপুর-বদরগঞ্জ সড়কে এক ব্যবসায়ীর ক্রয়কৃত জমি দখলে নিয়েছেন ওই এলাকার জয়নাল আবেদীন খান লিটন ও তার বাহিনীরা। আদালতে মামলা করেও বেপরোয়া দখলদার বাহিনী, জমি উদ্ধার করতে পাচ্ছেন না ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী।
আরিফুল ইসলাম নামের ওই ব্যবসায়ী সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চৌমুনী বাজারে বাড়াইশাল পাড়া মৌজার সৈয়দপুর-পাবর্তীপুর মহাসড়ক সংলগ্ন ও সৈয়দপুর-বদরগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন খতিয়ান নম্বর ৩৪৪, দাগ নং-১০৯৩ এর ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। এদিকে ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জমিটি ক্রয় করার পর ক্রয়কৃত ওই জমিতে দোকানপাট ও গোডাউন ঘর নির্মাণ করলে, লিটন খান ও তার বাহিনী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের নির্মাণকৃত দোকান ও গুদামঘর ভাংচুরসহ তাঁকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করতে থাকলে, তিনি গত ২০১২ সালের ৬ আগষ্ট তারিখে ১৫ জনের নাম উলেখ করে নীলফামারী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৩৩/১২। আসামীরা হলেন-১) জয়নাল আবেদীন খান লিটন, পিতা ঃ মৃত জহির উদ্দিন খান, ২) মোঃ ইলিয়াছ, পিতা ঃ মৃত ইব্রাহিম প্রামাণিক, ৩) মোঃ বাচ্চু মিয়া, পিতা ঃ মৃত সবুজ মিয়া ৪) মোঃ জিকরুল হক, পিতা ঃ বদর উদ্দিন, ৫) জিতেন্দ্রনাথ পাকা, পিতাঃ জগিন্দ্রনাথ, ৬) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, পিতা ঃ মৃত সাফাতুল্লাহ ৭) আব্দুল মজিদ, পিতা ঃ আব্দুল বারী, ৮) সামসুল হক বারাতী, পিতাঃ মৃত ইসাহাক আলী, ৯) নরেশ রবি দাস, পিতা ঃ রাম দাস. ১০) মোঃ ফরিদুল, ১১) মোঃ ফরহাদ উভয়ের পিতা ঃ মৃত মরতুজা সরকার, ১২) আব্দুল লাহেল বাকী, পিতা ঃ মৃত বদর উদ্দিন, ১৩) ফারাজ উদ্দিন, পিতাঃ মৃত ইসহাক আলী প্রামাণিক, ১৪) অক্ষয় চন্দ্র , পিতা ঃ মৃত ভবানী কান্ড এবং ১৫) সামসুল হক মন্ডল, পিতা ঃ মৃত বজলার রহমান। কিন্তু মামলা করার পরও উল্লেখিত ব্যক্তিরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গগুলী দেখিয়ে জোড় পূর্বক ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের দোকানপাট ভাংচুর করে তার ক্রয়কৃত জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, জয়নাল আবেদীন খান লিটন এলাকায় তার গঠনকৃত নিজস্ব বাহিনী দিয়ে জমি দখলসহ বিভিন্ন অন্যায় চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তার বাহিনী দিয়ে আমার ক্রয়কৃত জমি দখল করেছেন। আমি জমি উদ্ধারের জন্য আইনী আশ্রয় নিয়ে আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু এখনও কোন সুরহা হয়নি। এ ব্যাপারে মামলার প্রধান আসামী জয়নাল আবেদীন খান লিটনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের জমি আমরা দখল করেনি। তার জমি আমাদের দোকানের পিছনে রয়েছে এবং এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলছে। তবে, লিটন খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কার জায়গায় দোকান নির্মাণ করেছেন সে ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি এবং গড়িমসি শুরু করেন। যা হবে, আদালতে হবে। অপরদিকে, অত্র এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ওই জমি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা করিলে, তারা জানান জমিটি আরিফুল নামের এক ব্যবসায়ী ক্রয় করেছেন। এছাড়া নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, লিটন খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিভিন্ন অন্যায় মূলক কাজে লিপ্ত থাকেন। তাই তারা মোটা অংকের অর্থের আশায় ওই ব্যবসায়ীকে গায়ের জোরে জমি বেদখল দিয়েছে।