
রাজশাহীতে সানি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে লাশ নিয়ে রাস্তায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভ রাজশাহীতে সানি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে লাশ নিয়ে রাস্তায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজশাহীর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখির ছেলে স্কুলছাত্র সানি (১৭)কে হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সবজি পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরআগে ছুরিকাঘাতে সানি আহত হয়ে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সানি মহানগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকার বাসিন্দা। সনি এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছ। এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে নিহত সানির লাশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাশ নিয়ে মহাসড়কে বসে পড়লে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ মহাসড়কের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাস্তার দীর্ঘ যানজট বেঁধে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামালা দায়ের করেছেন। সোমবার (০৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। নিহত সানির মা জানান, গতকাল রোববার আমার ছেলের জন্মদিন ছিলো। তারা বন্ধুরা মিলে জন্মদিন পালন করতে গিয়ে একজন আহত হয় । তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসাপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তাদের সকলের দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আজ সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হেতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকার সমবয়সী কিছু ছেলের সঙ্গে রেলগেট এলাকার সনিসহ আরও কয়েকজনের এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে বিরোধ চলছিল। এর আগেও এই দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে আবার মীমাংসাও হয়েছে। কিন্তু এই বিরোধের জের ধরেই রোববার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে থেকে সনিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।