
রাজশাহীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীতে মাটিবাহী ট্রাক্টর ও দুই মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মা ও মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পবা উপজেলার আমান কোল্ড স্টোরেজের সামনে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত একজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, নিহত মোটরসাইকেল চালকের নাম আবদুল মান্নান (৪৮)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ছোট বিড়ালদহ গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া বাবা ও মায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় মোটরসাইকেলে থাকা নিহত কন্যাশিশুর নাম মরিম জান্নাত (৪)। সে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে। এ শিশু এবং অপর মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিশুর বাবা আক্তার হোসেন (৩৭) ও মা বিথি বেগমকে (৩৩) ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিথি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আক্তার হোসেনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তবে এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া রাজশাহীর নওহাটা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমান কোল্ড স্টোরজের সামনে মাটিবাহী ট্রাক্টরের সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে একটি মোটরসাইকেলের আরোহী আব্দুল মান্নান (৪৮) সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও কন্যাশিশুকে নিয়ে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন চালক আক্তার হোসেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় সড়কে ছিটকে পড়ে ওই শিশুর মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার বাবা ও মাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওই শিশুর মা বিথি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই শিশুর বাবা আক্তার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজশাহীর পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন বলেন, প্রথমে দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এরপর মোটরসাইকেল দুটিকে চাপা দেয় একটি ট্রাক্টর। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। অন্য আহত দুজনকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সেখানে বিথি বেগমের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরই ট্রাক্টর চালক পালিয়েছেন। তবে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে। এবং ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ওসি ফরিদ হোসেন।#