
ভোটার হলেন শতবর্ষী আম্বিয়া

সঞ্জয় ব্যানার্জী, পটুয়াখালী প্রতিনিধি।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সদরে গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তভুর্তির কার্যক্রম চলছিল। এসময় হুইল চেয়ারে করে সেখানে উপস্থিত হন শতবর্ষী আম্বিয়া(১০৫)। যেখানে ১৮বছর বয়স হলেই ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার হলেও এতদিন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। জীবনে কখনও ভোটও দেওয়া হয়নি তার। অবশেষে চলতি বছরের ১৬মার্চ রোববার ভোটার তালিকাভুক্ত হতে পেরে খুব খুশি আম্বিয়া বেগম। আসছে নির্বাচনে তিনি প্রথম বারের মতো ভোট দিবেন এই আশাও প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের কাছিপাড়া গ্রামের মৃত্যু মফেজ উদ্দিন হাওলাদার ও পানু বিবি দম্পত্তির কন্যা মোসা. আম্বিয়া বেগম। তিনি ১৯২০ সালের দিকে জন্ম গ্রহন করেন। এরপরে ১৯৩৫সালের দিকে একই ইউনিয়নের উত্তর কাছিপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস খানের সাথে বিয়ে সম্পন্ন হয়। সংসার জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙ্গনে কয়েক দফা বসতবাড়ি বিলীন হয়। এরপর ১৯৭২ সালে আম্বিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল কুদ্দুস খান মারাও যান। ছেলে সন্তান নিয়ে সে কখনো বাউফলে, কখনো পটুয়াখালীতে ও আবার কখনো গলাচিপায় বসবাস করতেন। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারার কারণে এতদিন ভোটার হইতে পারেনায়। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডে পরিবারের সাথে বসবাস করছেন। এবার ভোটার তালিকায় অন্তভুক্ত হয়।
নতুন ভোটার হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শতবর্ষী আম্বিয়া বেগম মাথায় কাপড় গুঁজে মুচকি হেসে আনন্দ প্রকাশ করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তার চোখেমুখে ছিল উচ্ছ¡াসের ঝলক। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, জীবনে অনেক কিছু দেখছি, কিন্তু আমার ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারিনায়। ভোটার হইছি ভালো লাগে ভোটও দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।
শতবর্ষী আম্বিয়া বেগমের নাতি মো. রাকিবুল হাসান জানান, দাদির জীবন ছিল অত্যন্ত সংগ্রামের। ১৯৭২ সালে স্বামী আব্দুল কুদ্দুস খানের মৃত্যুর পর তাকে বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান হিসেবে থাকতে হয়েছেন। সে কখনো বাউফলে, কখনো পটুয়াখালীতে ও আবার কখনো গলাচিপায়। এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারার কারণে এতদিন তিনি ভোটার হইতে পারেনায়। তবে আমাদের পরিবারের উদ্যোগে ভোটার তালিকায় অন্তভুক্ত করা হয়েছে।
এবিষয়ে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী ও রতনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার জানান, আম্বিয়া বেগমের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও তথ্য যাচাই করে ভোটার তালিকায় অন্তভূক্তির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নতুন ভোটার তালিকায় নাম ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আম্বিয়া বেগম দেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারদের মধ্যে অন্যতম হয়ে গেলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটার হতে পারার আনন্দ তার পরিবারেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও বুড়িয়ার বাঁধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন জানান, আম্বিয়া বেগমের জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করে দ্রæততার সঙ্গে তার ভোটার ফরম পূরণ করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাবেন।