শুক্রবার- ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ -২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ English Version

বীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে আমের গুঁটি

বীরগঞ্জে বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে আমের গুঁটি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবত বৃষ্টির অভাবে ঝরে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় প্রজাতির আমের গুটি। মৌসুমের শুরুতে মুকুলে চোখ জুড়ালেও সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে আমের গুটি কম এসেছে, আর এখন তীব্র তাপদাহের কারণে বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। আবহাওয়ার এই বৈরি আচরণে চাষি ও বাগান মালিকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। সরেজমিনে উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর,ভোগনগর, সাতোর,মোহনপুর ও মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, গাছগুলোর নিচে অসংখ্য আমের গুটি ঝরে পড়ে আছে। এ ছাড়া গাছের ডগায় আমের গুটি শুকিয়ে যাচ্ছে। অনাবৃষ্টি আর তাপদাহের কারণে আমের বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। ইতোমধ্যে আমের গুটি ঝরা রোধ করতে সেচ দিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন চাষী ও বাগান মালিকরা। বীরগঞ্জ উপজেলার আমচাষি মোঃ মিলন বলেন, ‘খরার কারণে আমের গুটি অনেক পরিমাণে ঝরে যাচ্ছে। যার কারণে গাছ থেকে আম কমে যাচ্ছে। গাছগুলোতে আমের মুকুল অনেক এসেছিল, কিন্তু প্রয়োজনমতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক মুকুল রোদে পুড়ে ঝলসে গেছে। এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে আমের বাগানে লোকসানের শঙ্কায় থাকতে হবে।’ এসব কারণে অধিকাংশ গাছ আমশূন্য হয়ে পড়ছে। বর্তমানে তাপদাহের কারণে আমগাছে সেচ ও কীটনাশকের মিশ্রন স্প্রে করেও গুটি টেকানো যাচ্ছে না।’

আমচাষী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের জেলখাপাড়া আম চাষি কালাম মাষ্টার আম বাগন চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসা করে আসছেন। এবছর তিনি ২০ একর জমিতে আম – লিচু’র পরিচর্যা করছেন। তিনি জানান,আমার বাগনগুলোতে প্রতিবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আম ধরে। এবারও গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। তিনি আরও জানান,আশা করা যায় , বড় ধরনের কোন প্রকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে, এসব মুকুলে ভালো আম হবে।” তবে নিয়ম মেনে মাঘের শেষ দিকে যেসব গাছে মুকুল আসে, তাতে আরও বেশি ফলন হয় বলে আশা করা যায়। তবে গতবছরের তুলনায় এবছর আমের মুকুল কম বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবছর আমের বোটা শক্ত ও আমের আকৃতি বড় হওয়ার জন্য মার্চ মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি দরকার। কিন্তু গত কয়েক মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় ছোট ছোট আম গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। বেশ কয়েক মাস বৃষ্টির দেখা নেই। দিনদিন তাপমাত্রা বাড়ায় গাছের তিন ভাগের এক ভাগ আম ঝরে পড়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আম নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলায় আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চলতি আম মৌসুমে এবার উপজেলায় ৩ শত ১৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। বাগানের সংখ্যা ৪৯৫টি। এছাড়াও উপজেলার প্রায় বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আমের গাছ রয়েছে।
প্রায় গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমরা আম বাগান চাষিসহ বসতবাড়িতে থাকা আম গাছ মালিকদের সেবা দিয়ে আসছি। এছাড়াও গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছি। আম চাষিদের যাতে আমের ভাল ফলন হয় সেই জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০ জন আম চষিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

১২ বার ভিউ হয়েছে
0Shares

COMMENTS