
পানিতে ব্যাকটেরিয়া রাজবাড়ীতে ডায়রিয়া প্রকোপ

রাজবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। তবে আক্রান্ত এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাদিয়া ফেরদৌসী।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ি গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৮জন। এদের মধ্যে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০জন। যা এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। এ ছাড়া পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১জন, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১জন কালুখালীতে আটজন, বালিয়াকান্দিতে ছয়জন এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় তিনজন। অপরদিকে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ১২৫ জন। এদের মধ্যে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ১০৮জন, পাংশায় আটজন, কালুখালী তিনজন, বালিয়াকান্দিতে চারজন এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় দুইজন।
সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে বাইরের দেয়ালে বিশুদ্ধপানির ফিল্টার বসানোর কাজ চলছে। হাসপাতালের বারান্দার শয্যা পেতে দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ আর হাসপাতালের মেঝেতে বিছানায় নেই। অনেক শয্যা খালি পড়ে রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি নার্সরা ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। কারও কারও স্যালাইন দিচ্ছেন। রোগীদেও পাশে স্বজনেরা বসে আছে।
বিনোদপুরের বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, তাঁর বাড়িতে সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাঁর মেঝোমেয়ের সমস্যা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাকে বাড়িতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। গতরাত থেকে তাঁর শরীরও খুব খারাপ। সকালে তিনি হাসাপাতলে এসে ভর্তি হয়েছেন। এখন শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।
লক্ষ্মীকোলের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন। একদম ব্লাডপ্রেশার ছিল না। শরীরে কোনো শক্তি ছিল না। তার এলাকার অবস্থাও খুব একটা ভাল না। অনেকের ডায়রিয়া হয়েছে।
১৮ মাসের ছেলে জুবায়ের শেখকে হাসপাতালে আছেন খাদিজা বেগম। তিনি বলেন, চারদিন ধরে ছেলের ডায়রিয়া। হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। শয্যা পেয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থা এখনো খুব একটা ভালো হয়নি। শরীর ভালো হলে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে যাবেন।
গত ৫ দিনের ডায়রিয়ায় জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৫৫ জন। সুস্থ হয়েছে ৩৮৮ জন। সদর উপজেলায় ৫ দিনের মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৪০জন। সুস্থ হয়েছে ২৯০জন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৮জন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাদিয়া ফেরদৌসী বলেন, তিনটি এলাকায় প্রকোপ খুব বেশি ছিল। এলাকাগুলো হলো বিনোদপুর, ধুঞ্চি এবং লক্ষ্মীকোল। এসব এলাকার সাপ্লাই ও জনসাধারণের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত নলকূপ থেকে নমুনা পানি সংগ্রহ করা হয়। ঢাকায় পরীক্ষার পর নমুনাতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নলকূপের গোড়া অপরিস্কার এবং কাছে টয়লেট থাকার কারণে এমন হতে পারে। আবার সাপ্লাইয়ের পানির পাইপ দীর্ঘদিন পরিস্কার না করায়ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, দুইদিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। তবে তা আবারও বাড়তে পারে। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পরিস্কার ও নিরাপদ পানি পান করতে হবে। টিউবওয়ের কাছে টয়লেট থাকলে যেকোনো একটা সরিয়ে দিতে হবে। কারণ নলকূপগুলো সাধারণত খুব একটা গভীর হয়না।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিপ্তরের পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাইনি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ভাবেও বিকেল পর্যন্ত জানি না। ফলাফল হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো।