
পঞ্চগড়ে অজানার উদ্দেশ্যে কিশোরী মা

পঞ্চগড় অফিস : পঞ্চগড়ে যৌতুকের দাবীতে স্বামী শ্বশুরবাড়ির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে দুই মাসের অসুস্থ্য কন্যা সন্তানকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তাসমিনা আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরী মা।
বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরের সি.এন্ড.বি মোড় এলাকায় এদিক সেদিন ঘোরাফেরা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়।
পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ হেফাজতে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় শহরের ধাক্কামারা সি.এন্ড.বি মোড় এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায় তাসমিনা আক্তার নামে ওই কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের পেলকুজোত গ্রামের হতদরিদ্র তরিকুল ইসলামের মেয়ে। সে একই ইউনিয়নের বন্দিভিটা গ্রামের খয়রুল ইসলামের ছেলে আরিফ হোসেনের স্ত্রী।
তাসমিনা আক্তার জানায়,যৌতুকের দাবীতে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাবার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জম্ম হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কিশোরী অসুস্থ কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে অজানার উদ্দেশ্যে বের হয়।
একসময় পঞ্চগড় শহরের সি.এন্ড.বি মোড় এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
কিশোরী তাসমিনা আক্তারের অভিযোগ, ২০২০ সালে আরিফের সাথে পারিবারিক ভাবে ঘটা করে বিয়ে হয় তার। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে তাসমিনার বাবা এক লাখ টাকা দেয়। বিয়ের কদিনের মাথায় সন্তান সম্ভাবা হই।
এদিকে কয়েক মাস পরেই যৌতুকের দাবী তুলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দাবী পূরণ করতে না পারায় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আমার উপর নির্মম নির্যাতন চালায়।
তাদের নির্যাতনে প্রথম সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর আবার সন্তান সম্ভাবা হই। একই সাথে আমার উপর নির্যাতন চালায়।
নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জন্ম দেই এই কন্যা শিশুর। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা খবর না নেয়ায় অতিরিক্ত দু’জনের ভার দারিদ্রতার কারণে বাবা নিতে না পারায় বাধ্য হয়ে অজানার পথে বের হই। কি ছিল আমার অপরাধ।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, স্থানীয়দের খবরে আমরা ওই অসুস্থ শিশুসহ তাসমিনাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই কিশোরী অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।